৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
Breaking::

আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থলে ভিআইপি ছাড়া কারো গাড়ি ঢুকবে না

untitle

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনস্থলে ভিআইপি ছাড়া কোনোন গাড়ি প্রবেশ করবে না। এছাড়া আগামী শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাধারণ দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, এই সময়কালে সম্মেলনে আগত অতিথি ও আমন্ত্রিতদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণও করা হবে।

আজ বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

জাতীয় এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যেসব সড়কে যানবাহন চালাচল নিয়ন্ত্রিত হবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপি কমিশনার জানান, সম্মেলন মঞ্চ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর আগামী শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্বভার গ্রহণ করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সম্মেলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ওই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এ সময় সোয়াত, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করা হবে।

তিনি বলেন, এবারের কাউন্সিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। তিনটি কন্ট্রোল রুম থেকে সম্মেলনের পুরো এলাকা তদারকি করা হবে। কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাথে সাথে ব্যবস্থা নেবে। সম্মেলনস্থলে সাতটি গেটে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করে প্রবেশ করানো হবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ভেহিকল মিরর সার্চ করে গাড়ি সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবে। উদ্যানের শিখা চিরন্তনের গেট দিয়ে ভিআইপি প্রবেশ করবেন। প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী শিখা চিরন্তনের গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন। মূল প্যান্ডেল ও মঞ্চের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে এসএসএফ। এ কাউন্সিলকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ওই সম্মেলনের কাউন্সিলর ও অতিথিদের নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়ার জন্য সম্মেলনের দুই দিন শনি ও রোববার (২২ ও ২৩ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগসহ আশেপাশের বেশ কিছু সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এজন্য বেশ কিছু সড়কে ডাইভারশন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ওই দুদিন ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী শনি ও রোববার নগরীর বেশ কিছু এলাকায় ডাইভারশন করা হবে এবং মাইক দিয়ে তা নাগরিকদের জানিয়ে দেয়া হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সম্মেলনের ডেলিগেটস, কাউন্সিলর ও আমন্ত্রিত অতিথিদের চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য আগামী শনিবার থেকে সম্মেলন এলাকার আশপাশে ভবঘুরে, হকার ও সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথি ও দলের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরাই সম্মেলন এলাকায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন। এ সময় সম্মেলনে আগত অতিথিরা কে কোন পথ দিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবেন তার দিক নির্দেশনাও দেন তিনি।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্দিষ্ট কোননো হুমকি থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয় নাই। একটি চক্র দৃশ্যমান উন্নয়নকে ব্যাহত করার উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। দেশ এখন সুপারসনিক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি চক্র এ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত করে চলছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো হুমকির জন্য নয়, সফলভাবে সমাপ্তির জন্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।