১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
Breaking::

Daily Archives: October 19, 2016

আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থলে ভিআইপি ছাড়া কারো গাড়ি ঢুকবে না

untitle

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনস্থলে ভিআইপি ছাড়া কোনোন গাড়ি প্রবেশ করবে না। এছাড়া আগামী শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাধারণ দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

তিনি বলেন, এই সময়কালে সম্মেলনে আগত অতিথি ও আমন্ত্রিতদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণও করা হবে।

আজ বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

জাতীয় এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যেসব সড়কে যানবাহন চালাচল নিয়ন্ত্রিত হবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপি কমিশনার জানান, সম্মেলন মঞ্চ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর আগামী শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্বভার গ্রহণ করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সম্মেলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ওই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এ সময় সোয়াত, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করা হবে।

তিনি বলেন, এবারের কাউন্সিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। তিনটি কন্ট্রোল রুম থেকে সম্মেলনের পুরো এলাকা তদারকি করা হবে। কারও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাথে সাথে ব্যবস্থা নেবে। সম্মেলনস্থলে সাতটি গেটে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করে প্রবেশ করানো হবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ভেহিকল মিরর সার্চ করে গাড়ি সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবে। উদ্যানের শিখা চিরন্তনের গেট দিয়ে ভিআইপি প্রবেশ করবেন। প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী শিখা চিরন্তনের গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন। মূল প্যান্ডেল ও মঞ্চের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে এসএসএফ। এ কাউন্সিলকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ওই সম্মেলনের কাউন্সিলর ও অতিথিদের নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়ার জন্য সম্মেলনের দুই দিন শনি ও রোববার (২২ ও ২৩ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগসহ আশেপাশের বেশ কিছু সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এজন্য বেশ কিছু সড়কে ডাইভারশন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ওই দুদিন ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী শনি ও রোববার নগরীর বেশ কিছু এলাকায় ডাইভারশন করা হবে এবং মাইক দিয়ে তা নাগরিকদের জানিয়ে দেয়া হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সম্মেলনের ডেলিগেটস, কাউন্সিলর ও আমন্ত্রিত অতিথিদের চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য আগামী শনিবার থেকে সম্মেলন এলাকার আশপাশে ভবঘুরে, হকার ও সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথি ও দলের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরাই সম্মেলন এলাকায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন। এ সময় সম্মেলনে আগত অতিথিরা কে কোন পথ দিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবেন তার দিক নির্দেশনাও দেন তিনি।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্দিষ্ট কোননো হুমকি থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয় নাই। একটি চক্র দৃশ্যমান উন্নয়নকে ব্যাহত করার উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। দেশ এখন সুপারসনিক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি চক্র এ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত করে চলছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো হুমকির জন্য নয়, সফলভাবে সমাপ্তির জন্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এমপিরা আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি হতে চান

sangshad_2

এমপিরা আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি হতে চান। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাদের পুনরায় এই পদে বসানোর জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। এমপিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে থাকতে পারবেন না বলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে।

আজ বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় কমিটিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

কমিটির সভাপতি আফছারুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য আবদুল কুদ্দুস, হাছান মাহমুদ, গোলাম মোস্তফা, এস এম আবুল কালাম আজাদ, মামুনুর রশিদ, সেলিনা আক্তার বানু প্রমুখ অংশ নেন।

এসময় সচিব সোহরাব হোসেইনসহ মন্ত্রণালয় ও সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সদস্যরা জানতে চান, সংসদ সদস্যরা যাতে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জবাবে সচিব সোহরাব হোসেইন জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এরপর কমিটির সভাপতি আফছারুল আমিন বলেন, যেহেতু মন্ত্রণালয় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশের বাইরে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতির পদ ফিরে পাওয়ার দাবিটি সব এমপিদের। যে কারণে কমিটি মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বৈঠকে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকদের জমা হওয়া অবসর ভাতার আবেদন নিষ্পত্তির জন্য দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা দরকার। অনেক দেনদরবার করে চলতি অর্থবছরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা সিড মানি হিসেবে জমা থাকবে এবং বাকি টাকা দিয়ে দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারিদের অবসর ভাতা বাবদ পরিশোধ করা যাবে। তবে বরাদ্দ হওয়া টাকা এখনো তহবিলে জমা হয়নি। সংসদীয় কমিটি শিক্ষকদের দ্রুত অবসর-সুবিধা দেয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যমান আইন দ্রুত সংশোধন করে তাদের ফান্ডে জমা থাকা টাকা থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রতি মাসে এই খাতে দেয়ার সুপারিশ করেছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন প্রকল্পের আওতায় ২৩ হাজার ৩৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি সামগ্রী বিতরণ করেছে। ছয় হাজার ৫০৬টি মাদরাসায় মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষসহ ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৩১ হাজার ৩৪০টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে পাঁচ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

সঙ্কট উত্তরণে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে : ফখরুল

untitle

আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলকে স্বাগত জানিয়ে এর সফলতা কামনা করেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা জানান।

”বিএনপি আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এখনো আমরা আমন্ত্রণ পাইনি। আমন্ত্রণ পেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। তাদের এই সম্মেলনকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, তাদের এই সম্মেলন সফল হবে। একই সঙ্গে এটা আশা করি, এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনবার জন্যে তারা তাদের ভুমিকা পালন করবেন। বিএনপি শুধু নয়, দেশের মানুষের একটাই প্রত্যাশা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবার জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব উপযুক্ত ভুমিকা পালন করবে।

থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা ভুমিবলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকালে বারিধারার থাই দূতাবাসে শোকবইতে স্বাক্ষর করার পর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের প্রেস উইয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আওয়ামী লীগের যেরকম অতীত ভুমিকা রয়েছে যে, তারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। আবার দুর্ভাগ্য হচ্ছে, তাদের হাতেই বার বার গণতন্ত্র আহত হয়েছে, বিঘ্ন হয়েছে এবং গণতন্ত্র পরাজিত হয়েছে। বর্তমান সংকট সৃষ্টির জন্য ক্ষমতাসীন দলকে দায়ী করে এ থেকে উত্তরণে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন. ‘‘ দেশে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, যে সংকট তৈরি হয়েছে, এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যেহেত আওয়ামী লীগ এখন সরকারে আছে, উদ্যোগটা তাদেরকেই গ্রহন করা উচিৎ। দেশকে আবার গণতন্ত্রে ফিরিয়ে নিয়ে আনা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া- এই দায়িত্বটা তাদেরই পালন করা উচিৎ। আমরা আশা করব, এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) সেই লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন।

”আওয়ামী লীগের সম্মেলন জাক-জমকপূর্ণভাবে করা হচ্ছে, বিএনপিকে যেভাবে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সম্মেলন করতে দেয়া হয়নি- এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তাদের সমর্থ অনুযায়ী, পরিবেশ অনুযায়ী তাদের সম্মেলন ও কার্য্ক্রম করবেন। বিএনপি তো দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছে, বিএনপিকে শুধূ নয়, বিরোধী দলকে কোনো গণতান্ত্রিক পরিসর বা স্পেস দেয়া হচ্ছে না। শুধু সভা-সমাবেশের ব্যাপারেই নয়, সব ক্ষেত্রেই এখন গণতন্ত্র সংকুচিত শুধু নয়, গণতন্ত্র প্রায় নির্বাসিত হয়ে গেছে। সেই কারণে আমরা মনে করি যে, আওয়ামী লীগ নিজেদের জন্য যে কাজটি করছে, সেই কাজটি অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে করার সুযোগ দেবে-এটাই আমরা আশা করি।

ফুটবলেও আছে মোস্তাফিজরা, তুলে আনবে কে!

gy

বল হাতে দৌড় শুরু করলেন মোস্তাফিজুর রহমান। সবাই নড়েচড়ে বসছেন—এবার বুঝি প্রতিপক্ষের একটি উইকেট পড়ে। চোখ সরে না কারোই। ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজনও উপভোগ করেন ক্রিকেটের ব্যাট-বলের লড়াই। আফসোস করতে ভোলেন না, ফুটবলেও একজন সাকিব, তামিম বা মোস্তাফিজ যদি থাকত!

ফুটবল, ক্রিকেট দুটোই ভিন্ন স্বাদের খেলা। একটির সঙ্গে আরেকটি তুলনীয় নয়। কিন্তু লড়াকু চরিত্র প্রয়োজন দুই খেলাতেই। ক্রিকেটে তা আছে, ফুটবলে একেবারেই নেই। তাই দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল দল ভুটানের কাছেও হারতে হয় আমাদের জাতীয় ফুটবল দলকে! তবে তৃণমূলে চোখ রাখলে একজন সাকিব, তামিম কিংবা মোস্তাফিজের ছায়া ঠিকই মিলবে। প্রতিভার আকাল ফুটবলে কোনোকালেই ছিল না। আগে পরিচর্যা ছিল, এখন নেই। পার্থক্য এই যা।

অথচ গত বছর এই সময়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের মালা পরেছে বাংলাদেশ। কিশোরদের গতি আর ছন্দময় ফুটবল মুগ্ধ করেছিল সবাইকে। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘এই ছেলেদের দায়িত্ব নিলাম। ওদের গড়ে তুলব ভবিষ্যতের জন্য।’

কিন্তু অভাগা ছেলেরা বাফুফের প্রশিক্ষণ দূরে থাক, কর্তাদের সামান্য একটু দর্শনও আর পায়নি। সাভার বিকেএসপির ১০ ছাত্র তাদের শিক্ষালয়ে চলে গেল। টুর্নামেন্টে দারুণ নৈপুণ্য দেখানো সারোয়ার জামান নিপুকে নিল প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল, সাদ ও সজীবকে ঢাকা আবাহনী। অধিনায়ক শাওন ব্রাদার্সে। বাকিরা ছড়িয়ে পড়ল এদিক-ওদিক। তারা এখন কোথায়, কেউ জানে না!

ভাগ্য ভালো নিপুর, চোট থাকায় তাকে নিতেই চাইছিল না শেখ জামাল। তখন দলটির কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক কর্তাদের সঙ্গে জোরাজুরি করে দলে রাখেন সম্ভাবনাময় ছেলেটিকে। পরিচর্যার পর এখন তো উপকৃত হচ্ছে ক্লাবই। বাংলাদেশের ক্লাবগুলো নিজের এই লাভটাই ঠিকমতো বুঝতে অক্ষম। প্রতিভা পরিচর্যা করলে ফলটা তো ক্লাবেরই। এমন প্রতিভা আরও আছে। চট্টগ্রাম আবাহনীতে খেলা কক্সবাজারের ইব্রাহিম, গাইবান্ধার রুবেল মিয়াও বেশ ভালো করছেন। তার মানে প্রতিভা আছে, দরকার শুধু একটু যত্ন নেওয়া।

সেই যত্ন নিতে দরকার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বা একাডেমি। কিন্তু এই আবশ্যকীয় উপাদানটি বাংলাদেশে ফুটবলে কোনো দিনই গড়ে ওঠেনি। কর্তাদের মধ্যে পরিশ্রমবিমুখতা দেখে বিরক্তি প্রকাশ করে গেছেন এ দেশে আসা সব বিদেশি কোচই। ২০০৩ সালে সাফ জয়ের কারিগর অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটান সব সময়ই রসিকতা করতেন পরিচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে, ‘তোমাদের কর্মকর্তাদের আমি খেলোয়াড় তুলে আনার পরিকল্পনা দিলাম। কিন্তু তাঁরা কাগজটা ড্রয়ারে রেখে তালা মেরে দিলেন! ড্রয়ার খুলে আর দেখেন না ওতে কী লেখা আছে।’

এ দেশের জল–হাওয়া গায়ে মাখাতে বারবারই ফিরে ফিরে এসেছেন কোটান। বর্তমানে আবাহনীর কোচের দায়িত্বে থাকা কোটান আজও পেছনে তাকিয়ে মজা করেন, ‘তোমাদের কর্তারা পারেন শুধু একটা কাজ করতে। পায়ের ওপর পা তুলে সাজানো রুমে বসে পিয়নকে ডেকে শুধু বলতে, ‘‘এই চা নিয়ে আয়, কফি নিয়ে আয়!” এটা আমি বাংলাদেশ দলের কোচ থাকার সময়ও কাছ থেকে দেখেছি!’

সময় এগিয়েছে। এটা তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। থ্রিজি, ফোরজি কোনো ব্যাপার না। ঘরে বসেই করে ফেলা যায় সব কাজ। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলকর্তারা যেন পড়ে আছেন সেই আদি যুগেই। তাঁদের মানসিকতায় এতটুকু পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। ষাট-সত্তরের দশকে তাঁরা যেভাবে ফুটবল চালিয়েছেন, একবিংশ শতকে এসেও ঠিক সেভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিভাবান অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ছেলেদের দুই বছর তাঁরা একসঙ্গে রাখলেন না স্রেফ নিজেদের উদাসীনতায়। ওই ছেলেরা ছড়িয়ে পড়ল যার যার মতো করে। জাতীয় দল নতুন খেলোয়াড় তাহলে কোথায় পাবে? খেলোয়াড় তো আর আকাশ থেকে পড়বে না!

কথাটা কদিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে বলছিলেন এডসন সিলভা ডিডো, বাংলাদেশের সাবেক কোচ। এই ব্রাজিলিয়ান কোচ থাকার সময় অনেক নতুন খেলোয়াড় গড়ে তোলেন। কিন্তু প্রাপ্য স্বাধীনতা চাওয়ায় তাঁকে বিদায় দিতে দেরি করেনি করিতকর্মা ফেডারেশন! বিদায়ের সময় ডিডো গুলশানের রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাফুফে কর্মকর্তাদের এমনভাবে গালাগাল করছিলেন, যা ছাপার অযোগ্য।

এই ফেডারেশন মোস্তাফিজের উঠে আসা দেখেও নড়েচড়ে বসে না। অনুসরণ করে না সেই প্রবাদটা, ‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন!’ ভুটান–লজ্জার পর এই অভিযোগই আসছে ঘুরে-ফিরে। কর্তাদের বোঝা উচিত, সাকিব-তামিমদের মতো সম্পদ ফুটবলেও আছে। যেমন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সারা দেশে প্রতিভা অন্বেষণ করছে এখন, সেখানে কোচেরা উপজেলা পর্যায়ে ঘুরে জানাচ্ছেন, সারা দেশেই নাকি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে অনেক মেধাবী কিশোর। এদের মধ্য থেকে অনেকেই ভবিষ্যতে বড় ফুটবলার হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এরা উঠে আসার সিঁড়িটাই সামনে পায় না।

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বাফুফের কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী বলছিলেন, ‘এত এত প্রতিভা দেখে আমরা মুগ্ধ।’ তবে অভিজ্ঞতা বলছে, কোচিং, অর্থ, খাওয়া–পরার ভাবনার বাস্তবতাতেই এরা হারিয়ে যায় অকালেই।’

বাংলাদেশে সমস্যা হলো, ধারাবাহিকতার বালাই নেই। অনূর্ধ্ব-১২, ১৩, ১৪ পর্যায়ে ফেডারেশন মাঝে মাঝে কিছু কাজ করেছে। তা হয়তো কোনো প্রতিযোগিতা সামনে রেখেই। কিন্তু প্রতিযোগিতার পর আর সেই খেলোয়াড়দের খোঁজ রাখেনি ফেডারেশন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই কর্মসূচিও হয়তো একই পরিণতি দেখবে। কর্তারা সুরম্য ভবনে ঠান্ডা বাতাস উপভোগই করে গেলেন। অঙ্কুরেই যে বীজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেদিকে কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই!

নেপাল, ভুটানের মতো দেশও একাডেমি গড়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনছে। বাংলাদেশ তা করছে না। তাই জাতীয় দল আজ মেধাশূন্য। ক্লাবগুলোও নির্বিকার। অথচ প্রতিটি ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল থাকা উচিত। পৃথিবীর সব দেশেই এটি আছে। এ ব্যাপারে ক্লাবগুলোর এগিয়ে আসার বিকল্প দেখছেন না জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আলফাজ আহমেদ। কিন্তু ক্লাব তৈরি পোশাক কেনার মতো ‘তৈরি খেলোয়াড়’ কিনে ১০–১৫ দিনের অনুশীলনে মাঠে নামে। নিচ থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার ব্যাপারে তাদের যত অনীহা।

ক্লাবগুলো যখন নিজেদের আগ্রহে কিছু করতে নারাজ, বাফুফের উচিত ছিল, পেশাদার দলগুলোর সঙ্গে নবীনদের যুক্ত হতে সহায়তা করা। ঢাকার পাঁচটি ক্লাবকে বাফুফে যদি অনুরোধ করত সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়ন দলের ২৫টি ছেলেকে দলে নিতে, নিশ্চয়ই তারা তা অগ্রাহ্য করত না। কিন্তু বাফুফে নির্বিকার, তাদের ইগো সমস্যা। অমুক ক্লাবকে অনুরোধ করব, ধেৎ, এটা হয় নাকি!

আশির দশকে দুজন নবীন খেলোয়াড়কে অন্তত তিন বছরের জন্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করে দিয়েছিল ফেডারেশন। সে সময় উঠে এসেছিলেন অনেক তারকা ফুটবলার। আজকের প্রতিষ্ঠিত কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘আমাকে তিন বছর বাইন্ডিংসে রাখে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। তিন বছরের মাথায় আমি আগাখান গোল্ড কাপ খেলেছি।’ এভাবেই নব্বইয়ের দশকে উঠে আসেন জাকির হোসেন, রকিব হোসেন, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব কিংবা জুয়েল রানা, মাসুদ রানারা। আজ সেই বাইন্ডিংস-প্রথা আবার চালু করার কথা বলেন অনেকেই। কিন্তু ক্লাব-ফেডারেশন সবাই বালুতে মুখ গুঁজে আছে।

ভুটান ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর সব হারিয়ে আবার সরব বাফুফে সভাপতি। বলছেন, এবার যুব কর্মসূচিতে হাত দেবেন। আট বছর ফুটবলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর নবম বছরে এসে তিনি বলছেন যুব কর্মসূচির কথা। তবে ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘বেটার লেট দ্যান নেভার!’ দেখা যাক, বাফুফে সভাপতি সত্যি সত্যিই এবার খেলোয়াড় তৈরিতে মনোযোগ দেন কি না!

২০১৭ সালে চালু হবে ফোর-জি : প্রধানমন্ত্রী

untitled

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের আমলে তথ্যপ্রযুক্তিখাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে বলেছেন, দেশের সব জেলায় বর্তমানে থ্রি-জি চালু হয়েছে; ২০১৭ সালে ফোর-জি চালু করা হবে। তিনি বলেন,  দেশে এখন ৬ কোটি ৪০ লাখ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। আমরা আশা করছি মাত্র অল্প কিছুদিনের মধ্যে দেশের সব মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করবে।

বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মেলা ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬’ উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে চলেছি। কিন্তু এ স্বপ্ন পূরণের পথে যেন অনাকাঙ্খিত বাঁধা না আসে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠন করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটিতে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যাতে করে কেউ ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করে অপরাধ করতে না পারে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে না পারে। তাই আমরা সাইবার অ্যাক্ট ২০১৬ প্রণয়ন করতে যাচ্ছি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আওয়ামী লীগ সরকার উত্তরোত্তর সফলতা আনছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৪০ টি দেশে আমরা আইসিটি সফট ওয়ার রপ্তানি শুরু করেছি। দেশের ২০টি অঞ্চলে হাইটেক পার্ক গড়ে তুলছি।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি সেবা পেতে এখন আর মানুষকে হয়রানি হতে হয় না। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে ইন্টারনেট চালু করায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ এখন দ্রুত সেবা পাচ্ছে, ঘুষ বাণিজ্য হয় না। ই-টেন্ডারের কারণে এখন আর হাওয়া ভবনের মতো টেন্ডার বাণিজ্যের ঘটনাও ঘটে না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচির পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার প্রমুখ।

‘ননস্টপ বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ‘ডিজিটাল ওয়াল্ড মেলা’ শুক্রবার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।