১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
Breaking::

Daily Archives: October 17, 2016

জামায়াতের আমির হিসেবে মকবুল আহমাদের শপথ গ্রহণ

mokbul

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত আমির মকবুল আহমাদ শপথ গ্রহণ করেছেন। আজ সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সামনে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান জামায়াতে ইসলামীর প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা এটিএম মাসুম। জামায়াতে ইসলামীর রুকনরা গোপন ভোটের মাধ্যমে ২০১৭-২০১৯ কার্যকালের জন্য মকবুল আহমাদকে আমির হিসেবে নির্বাচিত করেন।

আজ সোমবার জামায়াতের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

আমির হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি জামায়াতের সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর দোয়া কামনা করে বক্তব্যদেন।

দেশ এক সংকটকাল অতিক্রম করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশে বিরাজমান সমস্যা ও সংকটের সমাধান আমাদের সবাইকে মিলেই করতে হবে। কোনো একটি দলের পক্ষে কিংবা একা সরকাররে পক্ষে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সাথে আলাপ আলোচনা করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে চলমান সংকট ও সমস্যা সমাধানের উদ্যেগ গ্রহণের জন্য আমি সরকারের প্রতি আবারও আহবান জানাচ্ছি। আর এজন্য সব দল ও পক্ষের অংশগ্রহণে একটি সফল জাতীয় সংলাপের কোনোই বিকল্প নেই। তবে জাতীয় সংলাপকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সংলাপের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।

বক্তব্যের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতাদের স্মরণ করেন। একই সাথে মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের স্মরণ করে বলেন, যারা আমাদের প্রিয় জন্মভুমি বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি ইনসাফপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণের জন্য আজীবন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন। আর একারণে বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিহিংসামূলকভাবে তাদের পাঁচজনকে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে। দুজন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে জুলুমের শিকার হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। স্মরণ করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সোবহান এবং মোফাসসিরে কোরআন সাবেক এমপি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামসহ কারাগারে আটকনেতাকর্মীদের। তিনি ফিলিস্তিন, মিশর, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কবলে পড়ে যেসব মানুষ হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং কাশ্মিরের জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে যৌক্তিকভাবে মেনে নিয়ে স্থায়ী শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আন্তরিক আহবান জানান। মিয়ানমারের নিপীড়িত মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সে দেশের সরকার এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিও আহবান জানান।

মকবুল আহমাদ বলেন, আমাদের প্রিয় জন্মভুমি এক কঠিন সংকটের মুখে নিমজ্জিত। দেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না থাকায় গণতন্ত্র অবরুদ্ধ ও মানবাধিকার ভুলুণ্ঠিত। জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে ইসলামী দলসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে নগ্নভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে কার্যত একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও চরমপন্থা দমনে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, অপসংস্কৃতির সয়লাব ও নৈতিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ও চোরাচালান ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, লুটপাট, দলীয়করণ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অনৈক্য, মিথ্যাচার ও দমনপিড়ন ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সংখ্যালঘু সম্পদায় ও আজ সরকারি দলের দুবৃত্তদের লুটপাট, দখলদারিত্ব ও নির্যাতনের কারণে অনিরাপদ এবং অতিষ্ট। দারিদ্র, বেকারত্ব, মেধার অবমূল্যায়ন, বৈষম্য, নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা জনজীবনকে নাবিশ্বাস করে তুলেছে। দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা ও ব্যবসা বাণিজ্যের অঙ্গনগুলো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এক কথায় মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও দেশের ভবিষ্যত নিয়ে গোটা জাতি আজ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাঠাচ্ছে। এমনি প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর ন্যায় একটি দায়িত্বশীল ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী দলের আমির নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণকালে সবার প্রতি আহবান জানাতে চাই, এদেশটি আমাদের সবারই। দেশে বিরাজমান সমস্যা ও সংকটের সমাধান আমাদের সবাইকে মিলেই করতে হবে। কোনো একটি দলের পক্ষে কিংবা একা সরকারের পক্ষ্যে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সাথে আলাপ আলোচনা করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে চলমান সংকট ও সমস্যা সমাধানের উদ্যেগ গ্রহণের জন্য আমি সরকারের প্রতি আবারও আহবান জানাচ্ছি। আর এজন্য সব দল ও পক্ষের অংশগ্রহণে একটি সফল জাতীয় সংলাপের কোনোই বিকল্প নেই। তবে জাতীয় সংলাপকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সংলাপের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। সে লক্ষ্যে জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, আলেম উলামা, দেশপ্রেমিক বিবেকবান সাংবাদিক নের্তৃবৃন্দসহ

নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ ইইউ’র অগ্রাধিকার

untitle

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এই মুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অগ্রাধিকারে রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় ইইউ-বাংলাদেশ যৌথ কমিশন সাব-গ্রুপ বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে এটিকে শীর্ষে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বাংলাদেশ ও ইইউ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

আজ সোমবার গুলশানের লেকশোর হোটেলে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতির (ডিকাব) সাথে মতবিনিময়ে রাষ্ট্রদূত এসব কথা জানান। ডিকাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে সূচনা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক পান্থ রহমান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য কমিশনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা থাকতে হবে। আর নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইইউ’র ব্যাপক কর্মসূচি রয়েছে।

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিদেশী নাগরিক ও কূটনীতিকরা এখন ভীত-সন্তস্ত্র না হলেও তাদের উদ্বেগ পুরোপুরি কেটে যায়নি। সন্ত্রাস দমনে কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাই যথেষ্ট নয়। এজন্য নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।