১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং
Breaking::

বিদেশী এলেই খালেদা জিয়া নালিশ করেন : শেখ হাসিনা

untitled

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোনো জায়গা না পেয়ে বিদেশী অতিথি এলেই সেখানে গিয়ে তিনি নালিশ করে আসেন, গণতন্ত্র নাই। গণতন্ত্র বানান করতে জিজ্ঞাস করলে সেটাও পারবে কি না সন্দেহ আছে! গণতন্ত্র আসলে কাকে বলে সেই সংজ্ঞাটা দিতে পারবে কি না সেখানেও আমার সন্দেহ আছে।’

আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের বিরাজমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বারবার এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে। দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আছে বলেই আজকে মানুষ খাদ্যনিরাপত্তা পাচ্ছে, মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে, অবকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে, এমনকি আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতুও নির্মাণ করছি।’

সভায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ জাতীয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় চার বছর পর আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শক্তিশালী ফোরাম জাতীয় কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই মাঝে মধ্যে বলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই। এই কথাটা শুনতে হয় কাদের কাছ থেকে, সেটি হচ্ছে সব থেকে হাস্যকর ব্যাপার। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী, ক্ষমতা আহরণকারী, ক্ষমতা দখলকারীর হাতে তৈরি দল; যারা যুদ্ধাপরাধী এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দিয়েছে, পুরস্কৃত করেছে; তাদের কাছে আজকে গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়।

তিনি প্রশ্ন করেন, তারা কোন গণতান্ত্রিক পথেই তৈরি আর কোন গণতান্ত্রিক পথেই তারা ক্ষমতায় গেছে? বারবার তো ধ্বংসই করেছে এবং সেটাই তারা করতে চায়। এই দেশের মানুষকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান। তারপর সেনাপ্রধান হয়, সেনাপ্রধান থেকেই সেনাবাহিনীর নিয়ম অমান্য করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। এই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে গড়া সংগঠন হচ্ছে বিএনপি’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জানি না বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাস ভুলে গেছে কি না! যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসলো, গণরোষে থাকতে পারে নাই, পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা আসলো না, নির্বাচনে না এসে শিশু থেকে শুরু করে শত শত মানুষ পোড়ালো, জাতীয় সম্পদ নষ্ট করলÑ এটাই নাকি তাদের আন্দোলন!’

তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করেছি জনগণকে সম্পৃক্ত করে, যার ফল আমরা পেয়েছি। আর তাদের আন্দোলনটা খুন করা, নির্যাতন করা, পোড়ানো, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে এটাই তাদের আন্দোলন। এই আন্দোলনে তারা জনসম্পৃক্ততা পায়নি, পেয়েছে জনগণের রুদ্ররোষ। এখন তারা এসে বলে, দেশে গণতন্ত্র নাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে মন্ত্রী বানিয়ে লাখো শহীদের রক্তের সাথে যারা বেঈমানি করেছে, তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আর যুদ্ধাপরাধীদের মদদদাতা, এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, যারা মানুষের ধনসম্পদ লুট করেছে, অবশ্যই তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। কাজেই যত কান্নাকাটি বিদেশে করুক লাভ নেই। আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি করে যাচ্ছি, করে যাবো। বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জনগণ কিছু পায়। আর যারা এতিমের টাকা লুট করে খায়, মানিলন্ডারিং করে, মানুষ পুড়িয়ে মারে, এ দেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যুগ যুগ ধরে প্রত্যাখ্যান করবে।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে দলের জন্য নতুন নেতা নির্বাচনে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্য রক্ষা করবে। নতুন নেতা নির্বাচিত করবে।

নিজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৮১ থেকে ২০১৬, ৩৫ বছর। আর কত? আর কত? সেটাই আমার কথা। কাজেই আমি চাইবো যে, সবাই নতুন নেতা নির্বাচন করেন। দলটা আরো সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাক। বঙ্গবন্ধু চারা রোপণ করেছিলেন, তা মহীরুহ হয়ে এত বড় হয়েছে। কাজেই ভবিষ্যতের জন্য আপনারাই সে নতুন চারা রোপণ করেন এবং দলকে আরো সংগঠিত করেন, সেটাই আমরা কামনা করি। এ সময় উপস্থিত সব নেতাই একযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।