১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
Breaking::

Daily Archives: October 15, 2016

বিদেশী এলেই খালেদা জিয়া নালিশ করেন : শেখ হাসিনা

untitled

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোনো জায়গা না পেয়ে বিদেশী অতিথি এলেই সেখানে গিয়ে তিনি নালিশ করে আসেন, গণতন্ত্র নাই। গণতন্ত্র বানান করতে জিজ্ঞাস করলে সেটাও পারবে কি না সন্দেহ আছে! গণতন্ত্র আসলে কাকে বলে সেই সংজ্ঞাটা দিতে পারবে কি না সেখানেও আমার সন্দেহ আছে।’

আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের বিরাজমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বারবার এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে। দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আছে বলেই আজকে মানুষ খাদ্যনিরাপত্তা পাচ্ছে, মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে, অবকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে, এমনকি আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতুও নির্মাণ করছি।’

সভায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ জাতীয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় চার বছর পর আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শক্তিশালী ফোরাম জাতীয় কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই মাঝে মধ্যে বলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই। এই কথাটা শুনতে হয় কাদের কাছ থেকে, সেটি হচ্ছে সব থেকে হাস্যকর ব্যাপার। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী, ক্ষমতা আহরণকারী, ক্ষমতা দখলকারীর হাতে তৈরি দল; যারা যুদ্ধাপরাধী এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দিয়েছে, পুরস্কৃত করেছে; তাদের কাছে আজকে গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়।

তিনি প্রশ্ন করেন, তারা কোন গণতান্ত্রিক পথেই তৈরি আর কোন গণতান্ত্রিক পথেই তারা ক্ষমতায় গেছে? বারবার তো ধ্বংসই করেছে এবং সেটাই তারা করতে চায়। এই দেশের মানুষকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান। তারপর সেনাপ্রধান হয়, সেনাপ্রধান থেকেই সেনাবাহিনীর নিয়ম অমান্য করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। এই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে গড়া সংগঠন হচ্ছে বিএনপি’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জানি না বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাস ভুলে গেছে কি না! যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসলো, গণরোষে থাকতে পারে নাই, পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা আসলো না, নির্বাচনে না এসে শিশু থেকে শুরু করে শত শত মানুষ পোড়ালো, জাতীয় সম্পদ নষ্ট করলÑ এটাই নাকি তাদের আন্দোলন!’

তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করেছি জনগণকে সম্পৃক্ত করে, যার ফল আমরা পেয়েছি। আর তাদের আন্দোলনটা খুন করা, নির্যাতন করা, পোড়ানো, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে এটাই তাদের আন্দোলন। এই আন্দোলনে তারা জনসম্পৃক্ততা পায়নি, পেয়েছে জনগণের রুদ্ররোষ। এখন তারা এসে বলে, দেশে গণতন্ত্র নাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে মন্ত্রী বানিয়ে লাখো শহীদের রক্তের সাথে যারা বেঈমানি করেছে, তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আর যুদ্ধাপরাধীদের মদদদাতা, এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, যারা মানুষের ধনসম্পদ লুট করেছে, অবশ্যই তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। কাজেই যত কান্নাকাটি বিদেশে করুক লাভ নেই। আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি করে যাচ্ছি, করে যাবো। বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জনগণ কিছু পায়। আর যারা এতিমের টাকা লুট করে খায়, মানিলন্ডারিং করে, মানুষ পুড়িয়ে মারে, এ দেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যুগ যুগ ধরে প্রত্যাখ্যান করবে।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে দলের জন্য নতুন নেতা নির্বাচনে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্য রক্ষা করবে। নতুন নেতা নির্বাচিত করবে।

নিজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৮১ থেকে ২০১৬, ৩৫ বছর। আর কত? আর কত? সেটাই আমার কথা। কাজেই আমি চাইবো যে, সবাই নতুন নেতা নির্বাচন করেন। দলটা আরো সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাক। বঙ্গবন্ধু চারা রোপণ করেছিলেন, তা মহীরুহ হয়ে এত বড় হয়েছে। কাজেই ভবিষ্যতের জন্য আপনারাই সে নতুন চারা রোপণ করেন এবং দলকে আরো সংগঠিত করেন, সেটাই আমরা কামনা করি। এ সময় উপস্থিত সব নেতাই একযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড মহাসড়কে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

bimst

গোয়াতে ব্রিকস ও বিমস্টেক আউটরিচের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জানিয়েছে, মিয়ানমারের মধ্যে দিয়ে সড়কপথে সংযোগ স্থাপন করে থাইল্যান্ড তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্মেলনে তাদের একটি বড় লক্ষ্য হবে।  এই মুহুর্তে ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের মধ্যে দিয়ে যে ত্রিদেশীয় হাইওয়ের পরিকল্পনা চলছে, বিমস্টেকের মাধ্যমে বাংলাদেশকেও তাতে যুক্ত করার ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আউটরিচে যোগ দিতে আগামিকাল গোয়ায় আসছেন – এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো পরিষ্কার করে দিয়েছে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটিকে আরও প্রসারিত করাই হবে গোয়াতে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিমস্টেক কথাটার মধ্যেই আছে মাল্টি-সেক্টোরাল বা বহুমাত্রিক সহযোগিতার অঙ্গীকার – কিন্তু গোয়ার আউটরিচে তার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কানেক্টিভিটিকে।

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি বলছেন, দক্ষিণ এশিয়াতে তারা ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে মিলে যে সংযোগ গড়ে তুলছেন – এবারে বিমস্টেকের মাধ্যমে সেটাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

সম্মেলনের আয়োজক দেশ ভারতও বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের কানেক্টিভিটি অচিরেই একটা নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে যাচ্ছে – এবং খুব শিগগিরি মিয়ানমারও এই যোগাযোগের বৃত্তে সংযুক্ত হবে।

দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক সচিব অমর সিনহার কথায়, “১৯৬৫র আগে ভারত ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে যতগুলো যোগাযোগের মাধ্যম ছিল তার সবগুলোই একে একে আবার চালু করা হচ্ছে। নদীপথগুলো ইতিমধ্যেই কাজ করছে, আগরতলা-আখাউড়া রেলপথও চালু হওয়ার অপেক্ষায়।

“এরই মধ্যে মিয়ানমার হয়ে কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট রুটের কাজও ঝড়ের গতিতে এগোচ্ছে, বছরতিনেকের মধ্যে সেখানে মিজোরাম অবধি রাস্তাও তৈরি হয়ে যাবে। এই সব প্রকল্পের অর্থায়নে সময় লেগেছে, কিন্তু ২০১৮-১৯র মধ্যে এগুলো সবই কিন্তু বাস্তবায়িত হয়ে যাবে।” বলছেন মি. সিনহা।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার কিংবা ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর দক্ষিণ এশিয়া আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে এতদিন যেন একটা অদৃশ্য বাধার প্রাচীর ছিল – যে কোনও আন্তর্জাতিক সড়ক তৈরির প্রস্তাব ওইখানে এসে আটকে যেত।

কিন্তু হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি বলছেন, বিমস্টেক এখন সেই দেওয়ালটাকে ভাঙার চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে।

তার এই বক্তব্যের রেশ ধরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলছে – অবকাঠামোগত ও ডিজিটাল, দুধরনের কানেক্টিভিটি তৈরির জন্যই তারা বিমেস্টেকের সদস্যদের সঙ্গে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছেন।

সেক্রেটারি (ইস্ট) প্রীতি শরণের কথায়, “যেহেতু বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই বিমস্টেকের সদস্য, ফলে তাদের দুজনের ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে আমরা এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ভারত-মিযানমার-থাইল্যান্ডের মধ্যেকার ত্রিদেশীয় হাইওয়েকেও দুদিকে আরও সম্প্রসারিত করার কথাও ভাবা হচ্ছে। আসলে কানেক্টিভিটি হল এমন একটা অবকাঠামো যা হয়তো চোখে দেখা যায় না – কিন্তু একটা অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়নে সেটা বিরাট ভূমিকা রাখে।”

ফলে কানেক্টিভিটি বলতে এখানে শুধু নতুন রাস্তা, নতুন সেতু বা জলপথের কথাই বলা হচ্ছে না – একটা দেশ থেকে আর একটা দেশে পণ্য ও যাত্রীদের মসৃণ, অবাধ যাতায়াতের অঙ্গীকারও সেখানে নিহিত আছে।

গোয়াতে বিমস্টেক আউটরিচ এমন একটা অঞ্চলে সেই কানেক্টিভিটির স্বপ্ন দেখাচ্ছে যা আগে কখনওই দিনের আলো দেখেনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ছাত্রলীগের তান্ডবে জাতি অতিষ্ট -শিবির সেক্রেটারী জেনারেল

dsc_0050

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, একের পর এক ছাত্রলীগের দানবীয় তান্ডবে শান্তি প্রিয় ছাত্রসমাজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মূলত ছাত্রলীগের তান্ডবে জাতি অতিষ্ট। এই দানবের তান্ডব থেকে ছাত্রজনতা মুক্তি চায়।

তিনি আজ ছাত্রশিবির নরসিংদী শহর শাখা আয়োজিত সদস্য শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শিবির সেক্রেটারী বলেন, ছাত্রলীগ জাতির জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। একের পর এক তান্ডব ও নৃশংসতা চালিয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রজনতার জীবনকে অতিষ্ট করে তুলেছে। সম্প্রতি সিলেটে প্রকাশ্যে দিবালোকে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে যে ভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ক্ষত বিক্ষত করেছে তা কেবল নরপিচাশদের দ্বারাই সম্ভব। শুধু খাদিজাই নয়, এর আগেও বিশ্বজিৎসহ অনেককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। ফলে ছাত্রলীগ এখন এখন চাপাতি লীগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তাছাড়া ছাত্রলীগ ধর্ষনের সেঞ্চুরী, মায়ের পেটে থাকা শিশুকে গুলি করে ক্ষতবিক্ষত করা, কিশোর হত্যা, টর্চার সেলের নির্যাতনসহ এমন সব কলঙ্কজনক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে যা জাতিকে বার বার শঙ্কিত ও লজ্জিত করেছে। মূলত ছাত্রলীগের মাঝ থেকে নূন্যতম দায়িত্ব ও মানবতা বোধটুকুও হারিয়ে গেছে। অথচ আজ পর্যন্ত তার একটিরও সুষ্ঠ বিচার হয়নি। ফলে ছাত্রলীগের বেপরোয়া সন্ত্রাস এখনো অব্যাহত আছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি শান্তি প্রিয় ছাত্রজনতা ও প্রতিটি ক্যাম্পাসকে ভীতিকর অবস্থায় রেখেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী এমপিরা কথায় কথায় জঙ্গিবাদের জিকির তুলছেন। দেশবাসীর প্রশ্ন প্রকাশ্য একজন নিরীহ ছাত্রীকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা, মায়ের গর্ভে থাকা শিশুকে ক্ষত বিক্ষত করা, ক্যাম্পাস গুলোতে অস্ত্রের গুদাম গড়ে তোলার পর ছাত্রলীগ আর জঙ্গিদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? মূলত জঙ্গিবাদীর পূর্ণাঙ্গ রুপ ছাত্রলীগের মাঝে বিদ্যামান। সরকার যতই ছাত্রলীগকে সাধু সাজানোর চেষ্টা করুক না কেন, দেশবাসী ছাত্রলীগের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের বিপথে নিয়ে ছাত্রলীগ ও তাদের দোষররা সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের যে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে তা আদর্শীক রাজনীতি দিয়ে পূরন করতে হবে। আর এর মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে ছাত্রশিবিরকে। আমরা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের মাঝে জাতিকে হতাশ রাখতে চাইনা, বরং আদর্শীক নেতৃত্ব উপহার দিয়ে জাতিকে আশান্বিত করতে চাই।

-বিজ্ঞপ্তি

চাঁদা দাবি করে ড. রেজোয়ান সিদ্দিকীকে সপরিবারে হত্যার হুমকি

rezwan_17996

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট ড. রেজোয়ান সিদ্দিকীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর সোয়া ১২টায় একটি এয়ারটেল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে নিজেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত পরিচয় দিয়ে এ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে সপরিবারে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে তাকে।

বিকেল সোয়া চারটার দিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে ড. রেজেয়ান সিদ্দিকী লিখেছেন- ‘১৫ অক্টোবর দুপুর সোয়া ১২টায় একজন নিজেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত দাবি করে ০১৬১৯৪৪৯৯৯৭ নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা চাদা দাবি করলেন। বললাম- আপনি কি আমাকে চেনেন? বললেন, চেনেন। তা হলে তো জানেনই আমি এই টাকা দেওয়ার ক্ষমতা রাখি না। তিনি বললেন, টাকা দিতে হবে। নইলে সপরিবারে খুন করা হবে। কী আর করবো, থানায় গিয়ে জিডি করে এলাম। এটাই নাকি নিয়ম।’

ফের গণহত্যার শংকায় রোহিঙ্গারা

untitled

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর গত এক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ধারবাহিকভাবে অবনিতশীল এ পরিস্থিতিকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর পরিচালিত গণহত্যা পরিস্থিতির ‘নতুন পর্যায়ের’ ইঙ্গিতবাহী বলে যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক আশংকা প্রকাশ করেছেন।

মিয়ানমার টাইমস জানিয়েছে, গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশের মুংগডু এবং পার্শ্ববর্তী রাতেডং শহরের তিনটি চৌকিতে অজ্ঞাত পরিচয়ধারীদের হামলায় ১৩ জন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়। এর পর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মোট ৪৩ জন নিহত হয়েছে।

সীমান্তরক্ষীদের ওপর হামলাকারীদের ধরার জন্য অভিযানের নামে মিয়ানমারের পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী মুংগডু, রাতেডং এবং বুথিডং এলাকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে।

সেখানে অভিযানের কারণে চার শতাধিক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সড়কগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। আকাশে হেলিকপ্টারের টহল দিতেও দেখা গেছে। আতংকে লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনী ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি সন্দেহভাজন হামলাকারী আখ্যা দিয়ে বহু রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসিও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ করেছে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, রাখাইন প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করছে, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি অবাধে ধরপাকড়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে রাখাইন প্রদেশের চলমান পরিস্থিতিকে গণহত্যা পরিস্থিতির ‘নতুন পর্যায়’ আখ্যা দিয়েছেন লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টেট ক্রাইম ইনিশিয়েটিভ’-আইএসসিআই।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের এক এক প্রতিবেদনে আইএসসিআইএ’র গবেষকদের বরাতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিচারবহির্ভূত হত্যা, অবাধে গ্রেফতার এবং তাদের ঘরে ঘরে তল্লাশি অভিযান বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি এবং দেশের অন্য প্রদেশগুলো থেকে ভয়াবহভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিবিড়ভাবে পরিচালিত নিপীড়নের তথ্যগুলো যাচাই করা কঠিন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

আইএসসিআইয়ের পরিচালক এবং কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক পেনি গ্রিন বলেছেন, রাখাইন প্রদেশটি তথ্যহীনতার এক ‘ব্লাকহোল’ এবং সেখানে ব্যাপকভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ চালু আছে। ফলে সেখানে মানবাধিকার লংঘনের অভযোগগুলো স্বাধীনভাবে তদন্ত করা কঠিন বা অসম্ভব। তিনি বলেন, তারপরেও ২০১৫ সালেই আমরা সতর্ক করেছিলাম যে, আমরা গণহত্যা প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক ঘটনা ঘটতে দেখেছি।

র্ব্তমানে ব্যাপকহারে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি, চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের অতিরিক্ত বিধিনিষেধ এবং খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা সীমিত করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়ার বিষয়টি জানান অধ্যাপক পেনি গ্রিন। তিনি বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের সর্বশেষ যে সব ঘটনা ঘটছে, তাকে তাকে আমরা গণহত্যার একটি পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করছি।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ভাষায়, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষজন বিশ্বের সবচাইতে নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর একটি যারা পৃথিবীর কোনো দেশের নাগরিক নয়। গত কয়েক শতাব্দী ধরে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের বাস। দেশটি রোহিঙ্গাদের তার নাগরিক মনে করে না। বরং মিয়ানমার মনে, করে তাদের আদি আবাস বাংলাদেশ। এমনকি রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহারেও দেশটির সরকারের আপত্তি রয়েছে।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে বৌদ্ধদের হাতে নির্যাতনের শিকার বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার মুখে পালিয়ে সীমান্ত পার হয়ে তাদের অনেকেই বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে কক্সবাজার এলাকাতেই তাদের একটা বড় অংশ বাস করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়িতেও কিছু রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

সরকারের রেজিস্টার্ড ক্যাম্পগুলোতে ৩৩ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাস করে। কিন্তু বলা হয়- বাংলাদেশে তাদের মোট সংখ্যা পাঁচ লাখের মতো।

গানের অনন্য জাদুকর

untitled

বেশ কিছুদিন ধরে মার্কিন ওয়েবসাইটগুলোতে অনবরত চলছিল একই জপ। নোবেল কমিটি পেয়েছেটা কী? সেই যে টনি মরিসন সাহিত্যে নোবেল পেলেন ১৯৯৩ সালে, এর পর দেখি যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্যে আর শিকেই ছিঁড়ছে না!

মাঝখানের এই ২৩ বছরে অজানা অচেনা যেসব লেখক এ পুরস্কার পেলেন, তাঁদের কাকে মনে রেখেছেন পাঠকেরা? কিন্তু সব জল্পনা ছাপিয়ে এ বছরের সাহিত্যের নোবেলটা যুক্তরাষ্ট্রেই গেল। আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রই তো নয়, সারা পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে সেটি পেয়ে গেলেন বব ডিলান। সেই বব ডিলান, যিনি কিনা পপ সংস্কৃতির আইকন, অস্থির ও অশান্ত জীবনচর্চার এক গুরু। বিশুদ্ধ অর্থে সাহিত্যও করেননি। কেবল গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন আর গেয়েছেন।

আক্ষরিক অর্থে সাহিত্য করেননি, তেমন কেউ যে এর আগে কখনোই নোবেল পাননি, তা তো নয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ১৯৫৩ সালে নোবেল পেয়েছিলেন তাঁর ঐতিহাসিক ও আত্মজৈবনিক রচনার পাশাপাশি ‘অসামান্য বাগ্মিতায় মানবীয় মূল্যবোধ’ তুলে ধরার জন্য। তাঁরও আগে পেয়েছিলেন আরও দুই বিশুদ্ধ দার্শনিক-সৃজনশীল নন, মননশীল অবদানের জন্য ১৯২৭ সালে ফ্রান্সের অঁরি বের্গসোঁ আর ১৯৫০ যুক্তরাজ্যের বাট্রা৴ন্ড রাসেল। কিন্তু বব ডিলানের ক্ষেত্রে যেটা হলো, তা অভূতপূর্ব। সংস্কৃতির ‘অভিজাত’ বৃত্ত থেকে পুরস্কারটি ছিটকে চলে এল সাধারণ জনতার ধূলি-ময়লা মাখা সংস্কৃতির বলয়ে।

সাহিত্যের উচ্চতর কোনো আভিজাত্য নেই, সাহিত্যিক সাধারণ মানুষের চেয়ে এক ইঞ্চিও উঁচু কেউ নন—এসব হল্লাচিল্লা গত প্রায় দেড় শতকজুড়ে অনেক হচ্ছে। কবিরা পুরোনো তকমা ছিঁড়েছুড়ে ফেলেছেন মাটিতে। কথাসাহিত্যিকেরা নেমে এসেছেন হাঁটুসমান কাদায়। কিন্তু মধ্যযুগের জীর্ণ হয়ে যাওয়া আভিজাত্যের পোশাকটি নোবেল কমিটি ত্যাগ করেনি। বব ডিলান সেই অসাধ্যটি সাধন করালেন।

অসাধ্য সাধনকারী, এই হচ্ছে তাহলে বব ডিলানের পরিচয়। সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার ঝোঁক সব সময়ই ছিল বব ডিলানের মধ্যে। আর বব ডিলান বেড়েও উঠেছিলেন সেই সময়টিতে, ১৯৬০-এর দশকে—চেনাজানা সব সীমানা ভেঙে ফেলার জন্য যখন দেশে দেশে হাতুড়ি আর কুঠার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তরুণেরা। তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে দুরকম মুক্তিরই দাবি নিয়ে—ব্যক্তির, জনতার। নিউইয়র্কে অ্যালেন গিন্সবার্গ আর তাঁর তরুণ বিট প্রজন্মের বন্ধুরা সামাজিক সব কানুন উড়িয়ে দিয়ে শুরু করলেন প্রকাশ্য খোলামেলা জীবনযাপন।

আরেক দিকে সমান তালে শুরু হলো মানবাধিকার আর যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন। বিশ্বজোড়া মানুষ জেগে উঠল বাম প্রগতিশীল প্রেরণায়। ম্যালকম এক্স বা মার্টিন লুথার কিংয়ের হাত ধরে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণেরা পথে নামল বর্ণধর্ম-নির্বিশেষে মানুষের সম–অধিকারের স্বপ্ন নিয়ে। ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় যুদ্ধ বিশ্বপরিস্থিতি কড়াইয়ের মতো তপ্ত করে তুলেছিল। তারই প্রেক্ষাপটে ১৯৬৮ সালে আগুন ছড়িয়ে পড়ল প্যারিসে, লন্ডনে, বার্লিনে ও রোমে। শহরের দেয়াল আর মানুষের মন ভরে উঠতে লাগল ছাত্রদের বারুদঠাসা স্লোগানে।

বব ডিলানের আবির্ভাব এই তপ্ত মঞ্চে, ১৯৬০-এর দশকের গোড়ায়। এই সেই বব ডিলান, যিনি স্পর্ধাভরে বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ না ডুবে যাই, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি দাঁড়িয়ে থাকব মহাসাগরের ওপরে।’ আর তাঁর গানে তিনি মিলিয়েছিলেন তরুণদের এই দুই স্বপ্নকেই—তারুণ্যের অস্থির ও বন্ধনহীন আত্মপ্রকাশ, আর সব মানুষের অবাধ স্বাধীনতা।

একদিকে বব ডিলান ১৯৬০ সালে লিখছেন বিষণ্ন আর্তিতে বিধুর ‘ফেয়ারওয়েল, অ্যাঞ্জেলিনা’ গানটি, জোয়ান বায়েজের কণ্ঠে পরে যা অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা পায়। আবার ১৯৬৩ সালে মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’-এর বক্তৃতামঞ্চে গাইছেন ‘ব্লোয়িন ইন দ্য উইন্ড’। তাঁর গানে নিজেদের অন্তরাত্মার ছবি দেখতে পেল তরুণেরা। যে তরুণ অনিশ্চিত, যে তরুণ স্বপ্নচারী, যে তরুণ প্রতিবাদী। তাদের মধ্যে দাবানলের মতো আগুন ধরিয়ে দিলেন তিনি।

বব ডিলান হাজির হয়েছিলেন ফোক সং নিয়ে। হাতে গিটার আর মুখে হারমোনিকা, এই হয়ে উঠেছিল তাঁর চেনা প্রতিচ্ছবি। হারমোনিকাকে তিনি ফ্যাশনেবল করে তুললেন। তবে উডি গুথারি আর পিট সিগারের হাত ধরে ফোক সং তাঁর আগেই মার্কিন জনসমাজে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু তখনো তার ভোক্তা শিক্ষিত ও রুচিশীল মধ্যবিত্ত। বব ডিলান একে এনে ফেললেন মার্কিন জনসমাজে।

বব ডিলানের গান জনপ্রিয় হলো কিন্তু মোটেই তাঁর আত্মা হারাল না। তাঁর গানে কথার জাদুই প্রবল। প্রায় খোনা গলা ও নাকি স্বরের এমন গায়কের পক্ষে যে পৃথিবী জয় করা সম্ভব, কে এটা ভাবতে পারত? তা যে ঘটল, এরও এক শক্তি তাঁর গানের কথা। এক অসামান্য জাদুতে তাঁর গানে শিল্পিতা, ভাবুকতা আর অন্তরঙ্গতা একাকার হয়ে রইল। ‘ব্লোয়িন ইন দ্য উইন্ড’, ‘দ্য টাইমস দে আর আ-চেঞ্জিং’, ‘সাবটেরানিয়ান হোমসিক ব্লুজ’, ‘দ্য ট্যাম্বুরিন ম্যান’, ‘লাইক আ রোলিং স্টোন’, ‘নকিং অন হেভেনস ডুয়োর’-এর মতো গানের মহিমা শেষ হওয়ার মতো নয়।

এক অনিকেত অস্থিরতা বব ডিলানেরও ছিল। আর তা তিনি পেয়েছিলেন তাঁর পরিবারেরই ইতিহাস থেকে। ১৯০৫ সালের রাশিয়ায় ইহুদি-নিপীড়নের পটে তাঁর ইহুদি দাদা-দাদি ইউক্রেনের ওদেসা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। মঞ্চে গাইতে অভ্যস্ত ছিলেন না মোটেই। প্রথম জীবনের আকস্মিক খ্যাতিতে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। ১৯৬৬ সালে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ছুতোয় লোকচক্ষুর আড়ালে ডুব দিয়েছিলেন প্রায় আট বছর। মঞ্চে যিনি তাঁকে আবার ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনেন এবং অভ্যস্ত করে তোলেন—তিনি আরেক অসামান্য শিল্পী, ডিলানের এক সময়ের বান্ধবী জোয়ান বায়েজ।

এর পর সেই যে বব ডিলান ফিরে এলেন, বাকিটা তাঁর একের পর এক সীমানা জয়ের ইতিহাস। একবার তিনি বলেছিলেন, ‘আমি হয়ে ওঠা ছাড়া আমার পক্ষে আর কিছুই করা সম্ভব নয়, সেই আমিটা যা-ই হোক না কেন।’ গত পাঁচটি দশকে বব ডিলানের সেই আমি গানে গানে আমাদের অনেকের আমির সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে গেছে। মহৎ শিল্পীর তো এটাই ধর্ম।

বাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা তুলে নিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

bangladesh-bank-logo_0

গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে তুলে নিয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ৭ দিন থেকে ৩০ দিন মেয়াদে এ অর্থ তুলে নিতে প্রতি ১০০ টাকার জন্য ব্যয় করতে হয়েছে ৩ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে এ ব্যয়বহুল মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুদ্রানীতির কৌশল বাস্তবায়নের জন্য বাজারে টাকার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে গেলে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেয়া হয়। আবার বাজারে টাকার সঙ্কট দেখা দিলে রেপোর মাধ্যমে ও বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় বাজারে টাকা ছাড়া হয়।

জানা গেছে, বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করছে তা কাজে লাগাতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এতে প্রতিটি ব্যাংকের হাতেই বিনিয়োগযোগ্য উদ্বৃত্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার বেঁধে দেয়া সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা দিনশেষে ধরে রাখতে পারবে না। সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকগুলোর হাতে থাকলে দিনশেষে হয় তাকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বিক্রি করতে হবে, নতুবা বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হবে। অন্যথায় সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জরিমানা গুনতে হয়।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে ব্যাংকগুলো যে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাসী বাংলাদেশী ও রফতানিকারকদের কাছ থেকে নগদ টাকায় কিনে নিচ্ছে তা বিক্রি করতে পারছে না। আবার আন্তঃব্যাংকও মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা না থাকায় জরিমানা এড়াতে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দ্বারস্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো। বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রতি সপ্তাহেই ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে যে ডলার কিনছে তার বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে স্থানীয় মুদ্রা দিচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে টাকা ছাড়ায় বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে।