১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
Breaking::

Daily Archives: October 14, 2016

২০১৭ হবে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের বছর: জিনপিং

china

২০১৭ সাল হবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বের বছর, এমনই মত দিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মোট ২৬টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য বিনিয়োগ, ব্লু ইকোনমি, রোড-ব্রিজ ও রেল এবং জ্বালানি বিষয়ে পৃথক কয়েকটি চুক্তি।

চীনের রাষ্ট্রপতি বলেন, দিন দিন দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, আমরা এই দুই দেশের সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের জায়গা থেকে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কাজ করবো। আগামী দিনগুলোতে এই হবে মূল কাজ।

চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে কী পেল বাংলাদেশ

warm

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দুদেশের সম্পর্ক নিয়ে যেরকম উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে, তা অভূতপূর্ব। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, দুদেশের সম্পর্ক এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

চীনা প্রেসিডেন্টের কথায়, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বন্ধু হিসেবে পাশে থাকতে চীন প্রস্তুত। তিনি বলেন, ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের পর্যায় থেকে দুদেশের সম্পর্ক এখন কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্কে উন্নীত হবে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, দুদেশের মধ্যে ২৬টি নানা ধরণের চুক্তি এবং সমঝোতা হয়েছে।

বলা হচ্ছে চীনা প্রেসিডেন্ট যেরকম বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে এসেছেন এই সফরের সময় সেটা একটা রেকর্ড।

দুদেশের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী চীন বাংলাদেশকে ২৪ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ঋণ দেবে বিভিন্ন খাতে। এর বেশিরভাগই অবকাঠামো খাতে।

চীন আসলে বাংলাদেশের কোন কোন খাতে কী পরিমাণ বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে? এর মধ্যে কয়টি প্রকল্প আসলে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে?

গতকাল বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই শেখ হাসিনা এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম এবং খুলনায় দুটি বড় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, যার একেকটির ক্ষমতাই হবে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে একটি টানেল তৈরির প্রকল্পেও অর্থ সহায়তা দিচ্ছে চীন। এছাড়া একটি সার কারখানা, ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কনফুসিয়াস ইনষ্টিটিউট’ নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে চীনা অর্থ সাহায্যে।

চীন বাংলাদেশের উপকুলে গভীর সমূদ্রে একটি বন্দর নির্মাণেও আগ্রহী ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিবেশি ভারতের এ নিয়ে আপত্তি আছে। যার ফলে এই প্রকল্পটি নিয়ে কথা-বার্তা আর এগোয়নি বলেই মনে করা হয়।

চীনা প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঢাকায় এসেছেন চীনা ব্যবসায়ীদের একটি বড় প্রতিনিধি দলও। বাংলাদেশ বিনিয়োগে তারা কতটা উৎসাহী?

বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট মতলুব আহমেদ বলছেন, চীনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের ১৩টা চুক্তি হয়েছে। এই ১৩টি চুক্তিতে প্রায় এক হাজার তিনশো ষাট কোটি ডলার ব্যবসা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে অবকাঠামো, রেলওয়ে সহ নানা খাতের বিনিয়োগ ও ব্যবসা রয়েছে।

মতলুব আহমেদ জানান, এর প্রতিদানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা চীনের কাছে কোটা ফ্রি এবং ডিউটি ফ্রি পণ্য রফতানির সুযোগ চেয়েছেন।

মিঠুন বিশ্রাম নিতে আমেরিকায় গেলেন

mithun-chakraborty

২০০৯ সালে একটি ফিল্মের শুটিংয়ের সময় পিঠের হাড়ে ব্যাথো পেয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেই ব্যথাটি কিছুটা ভোগাচ্ছে তাকে। এজন্যকিছুটা বিশ্রাম দরকার তার। তাই অন্তত মাস খানেক বিশ্রাম নিতে লস অ্যাঞ্জেলস গেলেন মিঠুন চক্রবর্তী। মিঠুনের ম্যানেজার বিজয় মিঠুনের আমেরিকা যাওয়ার ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশকে পাশে চায় চীন

untitled

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে আজ শুক্রবার বিকেলে ৪০ মিনিটের বৈঠকে উন্নয়ন ও ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে চীন যে ভূমিকা রাখছে, বাংলাদেশও তার পাশে থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শি জিনপিং। বিএনপি চেয়ারপারসন বৈঠকে চীনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে চীনের রাষ্ট্রপতির সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সব সময় আশা করে, চীন তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সব সময় সহযোগিতা করবে ও পাশে থাকবে। একই সাথে চীনও আশা করে, চীনের যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চীন যে ভূমিকা পালন করছে বিশেষ করে উন্নয়ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সে বিষয়ে জোরালো সমর্থন জোগাবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে।

রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানের ১৪ তলায় প্রেসিডেন্ট স্যুটে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট স্থায়ী হয় বৈঠক।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। চীনের রাষ্ট্রপতির সাথে আসা কয়েকজন মন্ত্রী ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।

জানা গেছে, বৈঠকের পুরো সময়ই মূলত দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়া চীনা প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশে আসার জন্য স্বাগত জানান। এরপর তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সূচিত চীন-বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিএনপি সরকারের সময় চীনের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিনির্মাণের ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়া উল্লেখ করেছেন চীনের সাথে বাংলাদেশের যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়, সেটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে। তার পর থেকেই বাংলাদেশের সাথে চীনের অকৃত্রিম সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। চীন বাংলাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অকৃত্রিম বন্ধু।

বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি। পুরো সময়ই দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বিএনপির সাথে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্টও বিএনপির সাথে সুসম্পর্কের দিকগুলো স্মরণ করেছেন।

২৭ চুক্তি সই ৬ প্রকল্পের উদ্বোধন

gg

চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়েছে। ওয়ান বেল্ট-ওয়ান রোড উদ্যোগসহ এই সফরে ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে টানেল নির্মাণসহ ছয়টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এসব চুক্তি ও এমওইউ’র ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় উপনীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শুক্রবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে জিনপিং এয়ার চায়নার একটি বিশেষ ফ্লাইটে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন থেকে ঢাকায় পৌঁছান। তাকে বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশের আকাশসীমায় পৌঁছালে সেটিকে স্কট করে নিয়ে আসে বিমানবাহিনীর চারটি জেট। বিমানবন্দরে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় একটি শিশু। এরপর জিনপিং তিন বাহিনীর একটি চৌকস দলের দেয়া গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জিনপিং সরাসরি চলে যান এয়ারপোর্ট রোডের লা মেরিডিয়ান হোটেলে। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তিনি প্রথমে একান্ত এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এরপর বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে যৌথভাবে ছয়টি প্রকল্পের প্রতীকি ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

বিকেলে হোটেল লা মেরিডিয়ানে চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আলাদাভাবে দেখা করেন। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাথে বঙ্গভবনে সাক্ষাত করেন শি জিনপিং। এরপর তার সম্মানে রাষ্ট্রপতির দেয়া নৈশভোজে যোগ দেন।

চীনের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

untitled

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বর্তমান ভারসাম্যহীনতা হ্রাসে চীনের বাজারে বাংলাদেশের সব পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার কামনা করেছেন। আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে চীনের সফররত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সাথে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ‘বর্তমান বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা হ্রাসে আমরা চীনের বাজারে বাংলাদেশের সকল পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের অনুমতির জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা স্থায়ী এ বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে চীন তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, চীনে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধির বিষয়টি তাঁর দেশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।

আবদুল হামিদ বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আপনার এই সফরের মধ্যদিয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সার্বিক সহযোগিতার অংশীদারিত্বে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।’

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিরাজ করছে এবং দু’দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আপনার চীনা স্বপ্নের মতো আমরাও রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ গ্রহণ করেছি। এর লক্ষ্য হচ্ছে- ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা। এ ক্ষেত্রে চীনকে আমরা বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করি।’

চীনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, পারস্পরিক অক্ষণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব, অনাক্রমণ, একে-অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সমতা, পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শ্রদ্ধার নীতির ভিত্তিতে এ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা সবসময়ই চীনের জাতীয় স্বার্থে সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বিশেষ করে এক-চীন নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছি।

তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ খাতে চীনের সহযোগিতাকে আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ, এগুলো আমাদের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাঁর বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে তাঁরা একটি মাস্টার প্লান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাণিজ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

ছয় বছর আগে ঢাকা সফরের কথা উল্লেখ করে শি জিনপিং বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে বর্তমানে চমৎকার পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং আমাদের দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব এবং সচিববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে শি জিনপিং রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেন।

ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা যোগ দেন।