১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
Breaking::

Daily Archives: October 12, 2016

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা-অসুবিধা

credit-card

আর্থিক লেনদেনে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বড় ধরনের কেনাকাটায় সঙ্গে থাকা ক্রেডিট কার্ডটি বেশ কাজে আসে। তবে অনেকের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে একধরনের ভীতি কাজ করে। তারা ভাবে, এটা শেষে ব্যয়ের ফাঁদই হয়ে দাঁড়ায় কি না! ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।

দ্রুত লেনদেন
ধরুন, বেশ দামি কোনো জিনিস কিনতে চাইছেন। একসঙ্গে এত টাকা জোগাড় করতে পারছেন না। কারও কাছে ধারও করতে পারছেন না। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে কাজে দেয় ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার। এর মাধ্যমে পণ্যটি চট করে কিনে কয়েক মাস ধরে মূল্য পরিশোধ করা যায়। এতে ঋণের বোঝা খুব বেশি মনে হয় না। এ ক্ষেত্রেও নিজের বিচার-বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে। সময়সীমা অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে হয়তো জরিমানা গুনতে হতে পারে।

সুরক্ষা
বলা হয় নগদ, ডেবিট কার্ড ও চেক ব্যবহারের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেশি নিরাপদ। আপনার কার্ডটির ভুলত্রুটি বা জালিয়াতি হলে কিংবা চুরি হলে আপনি আপনার অর্থ ফেরত পাবেন।
ধরুন, আপনার কার্ডটি চুরি হয়ে গেল। কেউ টাকা তুলে নিল। এসব ক্ষেত্রে অভিযোগ করলে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পুরো অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকে। যথাযথ প্রমাণ দিয়ে দ্রুত অর্থ ফেরত পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে একটি ছোট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কার্ডের পিন নম্বরটি মনে রাখতে হবে। নম্বরটি লিখে নিজের কাছে কখনো রাখা যাবে না।

ঋণের সুবিধা
কিছু ক্রেডিট কার্ড, বিশেষ করে বিদেশে শূন্য শতাংশ সুদে ঋণ দেয়। এসব ক্ষেত্রে মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য পরিশোধ করতে হয়, যা বেশ সুবিধাজনক। আবার কোনো কোন কার্ডে ঋণে সুদের হার অনেক থাকে। এ ক্ষেত্রেও একটা সুবিধা আছে। বোঝা এড়াতে দ্রুত ঋণ পরিশোধ করা হয়। নিজস্ব ঋণ থাকে না।

ব্যয়ের সঙ্গে আয়
ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন অফার দেওয়া হয়। যেমন: ‘ক্যাশ ব্যাক অফার’, ‘স্পেশাল ডিসকাউন্ট’। দেশের বাইরে বেড়াতে গেলে, হোটেলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারে অনেক সময়ই মূল্যছাড় দেওয়া হয়। প্লেনের টিকিট কাটতেও অনেক সময় পাওয়া যায় বিশেষ মূল্যছাড়।

পরিবর্তনযোগ্য
ধরুন, আপনি একটি অফারের ক্রেডিট কার্ড নিয়েছেন। কার্ডটি ব্যবহারে ঋণের বোঝা বেশি মনে হলে এটি পরিবর্তন করে অন্য অফারের কার্ড নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে হয়তো সামান্য অর্থ বেশি লাগতে পারে। তবে তা লাভজনকই হয়।

ঋণের ফাঁদ
ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার সব সময়ই একটি ঋণ নেওয়ার মাধ্যম। আপনি এখন কিনছেন, পরে অর্থ পরিশোধ করতেই হবে। একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। আপনি সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করলে ঋণ বাড়তেই থাকবে।

লুক্কায়িত ব্যয়
সুদের হার পরিশোধই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের একমাত্র ব্যয় নয়। সময়মতো মাসিক মূল্য পরিশোধ না করলে আপনাকে জরিমানা গুনতে হতে পারে। ক্রেডিটে যে ব্যবহারের সীমা থাকে, সেটা অতিক্রম করলেও একটা নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ, সময়জ্ঞান না থাকলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেশ বিপজ্জনক। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ তুলতে এর জন্য নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হতে পারে।

সঠিক কার্ডটি চেনা
সঠিক কার্ডটি বেছে নেওয়া জরুরি। আপনার জন্য যা সুবিধাজনক। একটি ভুল কার্ড দিনের পর দিন ব্যবহার করলে ঋণের বোঝা কেবল বাড়তেই থাকবে। তবে এটা বুঝতে পুরো শর্তাবলি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। কোনটা নিজের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বেছে নিতে হবে।

সূত্র : মানি সুপারমার্কেট ডট কম।

যুক্তরাজ্যে সোনালী ব্যাংককে ৩৩ লাখ পাউন্ড জরিমানা

er

বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংক ইউকে শাখাকে নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের (২৪ সপ্তাহ) জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল কনডাক্ট অথোরিটি (এফসিএ) বলেছেন, সোনালী ব্যাংক ইউকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। এ জন্য ব্যাংকটিকে ৩৩ লাখ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকটি প্রবাসী-আয় বা রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠাতে পারবে।

এফসিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্যাংকটি ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব‌্য মুদ্রা পাচার ঠেকাতে পদ্ধতি উন্নত করতে সোনালী ব‌্যাংককে ২০১০ সালে সতর্ক করেছিল এফসিএ। কিন্তু এর পরের চার বছরেও ব‌্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে ব‌্যর্থ হয় সোনালী ব্যাংক ইউকে। এ জন্য এই জরিমানা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে, বার্মিংহাম ও ব্রাডফোর্ডে সোনালী ব্যাংকের তিনটি শাখা রয়েছে। প্রবাসীদের সেবা দিতে ও ঋণপত্রের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য ২০০১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করে সোনালী ব্যাংক। এতে সরকারের শেয়ার ৫১ ও সোনালী ব্যাংকের ৪৯ শতাংশ।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা

yy

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল আয়োজিত ইন্ট্রা-ইউনিভার্সিটি কুইজ প্রতিযোগিতা ২০১৬-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন সদস্যবিশিষ্ট ৮৪টি দল এ প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে অংশ নেয়। নয়টি দলের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ফার্মা ফ্যান্টনস দল জয়ী হয়। প্রথম রানার্সআপ হয় প্যাট্রিয়ট ও দ্বিতীয় রানার্সআপ স্ক্রিবলার্স। স্কুল অব ল-এর শিক্ষক ফারহানউদ্দিন আহমেদ ও খন্দকার তাসনুভা হকের তত্ত্বাবধানে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ী ফার্মা ফ্যান্টনস দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডিন প্রফেসর কে. শামসুদ্দিন মাহমুদ। বিজ্ঞপ্তি।

ফেসবুকে দল বেঁধে

ed4df001a4a8a775641fe610046b3661-untitled-4

‘ফেসবুক গ্রুপ’—জোট বেঁধে ভালো কিছু করার একটা দারুণ সুযোগ করে দিয়েছেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ হয়তো নেই, তবে একই রকম বিষয়ে যাঁদের মনের মিল, কখনো বা কাজের মিল; তাঁরা একসঙ্গে এখানে ‘গ্রুপ’ হয়ে যান। বিসিএস পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিদেশে পড়ালেখা, প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে সাইক্লিং, খাবারদাবার থেকে প্রকৃতি—নানান বিষয়ে আগ্রহীরা ‘গ্রুপ’ বানিয়ে নেন ফেসবুকে। বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও আছেন গ্রুপচর্চায়। কিছু কিছু গ্রুপ বেশ কাজেই লাগে। এমন কিছু ফেসবুক গ্রুপের কথা জানা যাক।

জানার আছে কত কী

গ্রুপের নাম ‘বিসিএস: আওয়ার গোল’। বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কথাবার্তা চলে এই দলে। সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। বিসিএস প্রস্তুতির বহু পরামর্শ, তথ্য মেলে এখানে। এই গ্রুপে বেশ জনপ্রিয় ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী সুশান্ত পাল। তিনি পরামর্শ আর সাহস দিতে চেষ্টা করেন বিসিএস পরীক্ষার্থীদের। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের কাজে লাগে, এমন ফাইলগুলোই আমি আপলোড করি।’

বিদেশি ভাষাশিক্ষা বিষয়ে কিছু গ্রুপের খোঁজ পাওয়া গেল। ‘লার্ন জার্মান-বিএসএ জার্মানি’ নামের দলটিতে যেমন জার্মান ভাষা শেখার পরামর্শ দেওয়া হয়। আবার উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীরা ভিড় জমান ‘হায়ার স্টাডি অ্যাবরোড’ নামের ফেসবুক গ্রুপটিতে। এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সিয়াম হোসাইন জানান, ‘উচ্চশিক্ষার জন্য আমাদের দেশের তরুণদের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দিতে তেমন কোনো ওয়েবসাইট নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম।’ বিভিন্ন সময়ে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সেমিনারের আয়োজনও করেন গ্রুপের সদস্যরা।

শুধু পড়ালেখা আর পেশা-ভাবনাই নয়

ভাবনার জগৎটা আরও ঝালিয়ে নেওয়ার দলও আছে। গণিত নিয়ে আগ্রহীরা যেমন বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড গ্রুপে এক জোট হয়েছেন। আবার কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা পাবেন ‘প্রোগ্রামিং প্রবলেম’ নামের দলটিতে। ৭০ হাজারের বেশি সদস্যের এই দলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সমস্যা-সমাধান নিয়ে পোস্ট চোখে পড়ে।

ওদিকে বিডি সাইক্লিস্ট গ্রুপের সাইকেলপ্রেমীরা অনলাইনের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতি সপ্তাহেই এক হয়ে যান। রাইডে ছুটে বেড়ান ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের নানা এলাকায়। শুধু অনলাইনেই নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি, এমন আরেকটি গ্রুপ বইপোকাদের আড্ডাখানা। এক লাখের বেশি সদস্য আছেন এই দলে। মাঝেমধ্যেই প্রিয় বই নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তাঁরা। ফেসবুকের নীল দুনিয়ার বাইরে দেখা হয়ে যায় বইপ্রেমী বন্ধুদের।

গ্রুপের ভালো গ্রুপের মন্দ

হাজারো বিষয়ের ফেসবুক গ্রুপ থাকলেও সবগুলো কিন্তু কাজের নয়। ভালো-মন্দ বাছাই করার দায়িত্ব ব্যবহারকারীর। নিজের আগ্রহ, পছন্দের বিষয় হলেই কোনো গ্রুপে যোগ দিন। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা বললেন, ‘আমি অনেক গ্রুপে নিজের আগ্রহেই যুক্ত হই, আবার অনেক গ্রুপে বন্ধুরা যুক্ত করে নেয়। বেশির ভাগ সময়ই গ্রুপগুলো কাজে লাগে, আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্রুপগুলো বেশ বিরক্তি তৈরি করে। অনেক নোটিফিকেশন, ট্যাগ করা, ছবি পোস্টের কারণে গ্রুপগুলোতে নানা বিষয়ে অযথাই কথা হয়। এ বিষয়গুলো তখন সদস্যদের বিরক্ত করে।’

বইপোকাদের আড্ডাখানা গ্রুপের প্রশাসক আশিক সরকার বলছিলেন, ‘নানা মতের মানুষ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কে কেমন মানসিকতার তা আগে থেকে টের পাওয়া যায় না। অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়েও গ্রুপের দেয়ালে কথা-মন্তব্য-ছবি প্রকাশ করেন অনেকেই। আমাদের গ্রুপ মডারেটরদের প্রতিদিনই এমন বিরক্তির পোস্ট সরানোর জন্য চোখ খোলা রাখতে হয়।’

সবকিছুর পরও সমমনা তরুণেরা এককাট্টা হন গ্রুপে। নিজেদের মধ্যে ভাবনা দেওয়া-নেওয়া করেন, দরকারে অন্যদেরও সহযোগিতা করেন।