৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং
Breaking::

Daily Archives: October 4, 2016

বদরুল ছাত্রলীগের কেউ না!

47755

সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা বদরুল ইসলাম ছাত্রলীগের কেউ নন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

বদরুলের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে দেখতে মঙ্গলবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে যান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, হামলাকারী বদরুল ছাত্রলীগের কেউ না।

জাকির বলেন, ‘ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে লেখা আছে কোনো কর্মী কাজে যোগ দিলে ও বিয়ে করলে তার সদস্যপদ অটোমেটিক বাতিল হয়ে যায়।’

জাকির জানান, ছাত্রলীগ নেতা বদরুল বর্তমানে সুনামগঞ্জের ছাতকের আলহাজ্ব আয়াতুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সুতরাং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সে আর ছাত্রলীগের কর্মী নন।

কারও ব্যক্তিগত কর্মের দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খাদিজার ওপর নৃশংস হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে জাকির বলেন, ‘নার্গিসদের পরিবারের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা আছি।’

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার নৃশংসতা

untitled

ছাত্রলীগের এক নেতা আবারও নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে। তার নাম বদরুল ইসলাম। সে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।

সোমবার ছাত্রলীগ নেতা বদরুল চাপাতি দিয়ে নৃসংশভাবে কুপিয়ে আহত করে সিলেট মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে। আহত নার্গিস ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বদরুলের ওপর জঙ্গিদের প্রভাব স্পষ্ট। সে যেভাবে চাপাতির ব্যবহার করেছে সেটা সমাজের জন্য যথেষ্ট আশঙ্কার কারণ।

সোমবার বিকালে সিলেট এমসি কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আসার সময় নার্গিসের ওপর চাপাতি দিয়ে হামলা চালায় বদরুল। কোপে তার মাথায় এবং হাতে মারাত্মকভাবে আঘাত লাগে। ঘটনাস্থল থেকে একুট দূরে দাড়িয়ে নৃশংস এ ঘটনার ভিডিও করে সেখানে উপস্থিত লোকজন। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় মাটিয়ে লুটিয়ে পড়া নার্গিসকে বদরুল কুপিয়েই যাচ্ছেন।

সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্ত্যক্ত করার ধরন বদলে এধরনের কোপানো গত মে মাসের দিক থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটা বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে সমাজে।

এদিকে বদরুলকে আটক করেছে শাহপরান থানা পুলিশ। সে ঘটনাস্থলে গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন সিলেটের (দক্ষিণ)অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মিজান আল মুসা।

অতিরিক্ত এই উপকমিশনার বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, নার্গিসদের বাড়িতে লজিং থাকতেন শাবি ছাত্রলীগের নেতা বদরুল। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে বদরুল দাবি করেছে। সম্প্রতি নার্গিস তাকে প্রত্যাখ্যন করলে সে এই সিদ্ধান্ত নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় লোকজন ছুটে আসতে দেখে বদরুল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাকে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে জনতার হাত থেকে হামলাকারীকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় নার্গিসকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় লোকজন। তাকে সোমবারই গভীর রাতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।’

সোমবার বিকালে পরীক্ষা দিয়ে নার্গিস বের হওয়ার পর এমসি কলেজ মসজিদের পেছনে পুকুর পাড়ে তাকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর দৃশ্য দূর থেকে ভিডিও ধারণ করলেও কেউ এগিয়ে যায়নি।

পুলিশ জানায়, তারা ভিডিওটি দেখেছেন এবং কোপানোর ধরন দেখে বোঝা যায় হত্যা করাই উদ্দেশ্যেই কোপানো হচ্ছে।

ক্যাম্পাসে অবস্থানকারী একজনের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সোমবার রাতেই প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনার সময় কয়েকজন যুবক এগিয়ে গেলেও আবার দৌড়ে পালিয়ে আসতে দেখা গেছে। এসময় ভিডিও ধারণকারী নারী কণ্ঠে শুধু ‘ও মাই গড ….ও মাই গড’ বলতে শোনা যায় এবং ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, হামলাকারীকে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সপোর্দ করে।

সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরিন বলেন, ‘আমাদের আক্রমণের ধরনও বদলে গেছে। জঙ্গিদের কোপানোর একের পর এক ঘটনার প্রভাব তো সমাজে পড়বেই। এই মানসিকতা থেকে এখন প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হলেও ওই চাপাতির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে সমাজ। এটি ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আগে বিচারের দিকটি নিশ্চিত করা ‍খুবই জরুরি।’

গত মে মাসে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চার বান্ধবীকে নিয়ে প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে কোপানোর ঘটনা উল্লেখ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী বলেন, ‘বখাটেদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনা বদলে যাচ্ছে। একসময় কেবল মৌখিকভাবে উত্যক্ত করা হতো। পরবর্তীতে সেটা এসিড সন্ত্রাসে রূপ নিয়ে। এখন কোপানোর জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। সমাজ যে বিষয়গুলোর মধ্য দিয়ে যাবে তার প্রভাব থাকবে এটাই স্বাভাবিক। উপযুক্ত শাস্তি এবং অবশ্যই তা যত কম সময়ে সম্ভব হয়- এ দুয়ের বাইরে কোনও সমাধান আপাতত নেই।’

নিজেদের মধ্যে গুলিবিনিময় ভারতীয় বাহিনীর!

1

কাশ্মিরের বারমুলায় রোববার রাতে দুর্ভেদ্য সেনা ও বিএসএফ ক্যাম্পে কারা হামলা চালিয়েছে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ভারতীয় পক্ষ দাবি করেছে, সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো হামলাকারীকে আটক করতে না পারায় অনেকে ভিন্ন কথা বলছেন। কেউ কেউ বলছেন, ‘ভীত-সন্ত্রস্ত্র’ ভারতীয় বাহিনী কোনো আশঙ্কায় নিজেদের মধ্যেই গুলিবিনিময় করেছে। অবশ্য বিএসএফ ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারের’ কথা অস্বীকার করেছে। ওই হামলায় এক বিএসএফ সৈনিক নিহত হয়। এছাড়া মিডিয়ায় বলা হয়েছিল, দুই হামলাকারী নিহত হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, উত্তেজনাকর পরিবেশের মধ্যে বিএসএফ ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারের’ কথা অস্বীকার করেছে। বিএসএফ ডিজি কে কে শর্মা বলেছেন, সন্ত্রাসীরা হামলা করে পালিয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, রোববার রাতে বারামুলার বিএসএফের ৪০তম ব্যাটালিয়নের খোলা রান্নার স্থানের কাছে কারো উপস্থিতি সন্দেহ করে সেখানে দায়িত্বে থাকা প্রহরী গুলি করতে থাকে। এতে পাশে থাকা ৪৬ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ক্যাম্প থেকেও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় গুলি করা হতে থাকে।

দুই পক্ষই সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় গুলি করা অব্যাহত রাখে। সত্যি সত্যি সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছিল কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ৯০ মিনিট গুলিবর্ষণের পর পুরো এলাকায় আলো জ্বালানো হয়। তখন কিন্তু কোনো সন্ত্রাসীকে পাওয়া যায়নি। বিএসএফ জানিয়েছে, অন্ধকারে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে।

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে প্রবল উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা ঘটল।

এর আগে কাশ্মিরের উরিতে এক সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে ১৯ ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়। ভারত দাবি করে, পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায়। এরপর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর দাবি করে। তবে পাকিস্তান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।