১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
Breaking::

Daily Archives: October 3, 2016

চিকিৎসায় নোবেল পেলেন জাপানের শুমি

চলতি বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেলেন জাপানী বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওশুমি। প্রাণীকোষ কী করে নিজের উপাদানকে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে, সেই গবেষণার জন্য নোবেল পেয়েছেন তিনি।

সোমবার সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট ইয়োশিনোরি ওশুমির নাম ঘোষণা করে। এসময়ে নোবেল কমিটি বলেছে, ক্যান্সার থেকে শুরু করে পারকিনসনস রোগের কারণে শরীরে কী ধরণের পরিবর্তন হয় তা বুঝতে ইয়োশিনোরি ওশুমির গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত বছর নোবেল কমিটি তিনজনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল দেয়। এ বছর ইয়োশিনোরি ওশুমি একাই এ পুরস্কার পেলেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

সূত্র : বাসস

দুনিয়াসক্তি সব অপরাধের মূল

2

ইসলামি আকিদার মৌলিক বিষয় তিনটি- তাওহিদ, রেসালাত ও আখিরাত বা পরকালে বিশ্বাস। এর মধ্যে পরকালের বিশ্বাস হলো বিশুদ্ধ আমলের রূহ বা প্রাণ এবং সব গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর।

চিন্তা করলে পরিষ্কার বুঝে আসে, দুনিয়ার শান্তিশৃঙ্খলা আখিরাতের আকিদা ব্যতীত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। বস্তুবাদী উন্নতির এখন উচ্ছল যৌবন চলছে। অপরাধ দমনে সব জাতি ও রাষ্ট্র উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের চেষ্টা-তদবিরের অন্ত নেই। আইন-আদালত ও অপরাধ দমন কমিশন-সংস্থাগুলোর উন্নত ব্যবস্থাপনা-পদ্ধতি সবই আছে। কিন্তু প্রত্যেক জাতি ও দেশে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সঠিক প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলেই আজকে অশান্তি-অস্থিরতা বিরাজমান। বস্তুত এসব রোগের মূলে রয়েছে দুনিয়াপ্রীতি, বস্তুবাদী ধ্যানধারণা, পার্থিব ব্যস্ততা ও পরকালের প্রতি উদাসীনতা। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘দুনিয়ার মোহ সব গুনাহের মূল।’

আর সূরা তাওবার ৩৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কী হলো, যখন আল্লাহর পথে বের হতে বলা হয় তোমরা জমিনকে আঁকড়ে ধরো? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবন নিয়েই পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখিরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের উপকরণ অতি সামান্য।’ দুনিয়াপ্রীতির রোগ নির্ণয়ের পর আয়াতের শেষার্ধে প্রতিকারস্বরূপ ইরশাদ হয়েছে, ‘পার্থিব জীবনে ভোগের উপকরণ অতি নগণ্য।’

হাদিস শরিফ ও কুরআনের আলোকে এর একমাত্র প্রতিকার হলো আল্লাহর জিকর, স্মরণ ও পরকালের চিন্তাভাবনা। যে দেশ ও সমাজে যখনই এ অমোঘ প্রতিকার প্রয়োগ করা হয়েছিল; সে দেশ ও সমাজ মানবতার মূর্তপ্রতীক হয়ে ফেরেশতাদেরও ঈর্ষার পাত্র হয়েছিল। রাসূল সা: ও সাহাবায়ে কেরামের স্বর্ণযুগ তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

বর্তমান বিশ্বেও সবাই আজ অপরাধপ্রবণতার পরিসমাপ্তি চায়। এর জন্য নিত্যনতুন পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তারা আল্লাহ-ভীতি ও পরকালের প্রতি উদাসীন হয়ে পদে পদে এমন ব্যবস্থা করছে, যার ফলে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি মনোযোগ আসে না। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি অপরাধ ও দুর্নীতি দমনের সব ব্যবস্থাপনাই ব্যর্থ ও অকার্যকর বলে প্রমাণিত হচ্ছে। অপরাধ দমন তো দূরের কথা; বরং ঝড়ের বেগে যেন তা বেড়েই চলেছে। অপরাধীরা জেলজরিমানাকেও ভয় করছে না।

কারণ একটাই, যেহেতু দুষ্কৃতদের মনে আল্লাহর স্মরণ নেই, পরকালের শাস্তির ভয়-ভীতি নেই। আজকের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও চিন্তাশীল মহল যদি উপরিউক্ত ঐশী প্রতিকার প্রয়োগ করে দেখত, তবে অবশ্যই প্রত্যক্ষ করত- কত সহজে অপরাধপ্রবণতার উচ্ছেদসাধন করা যায়। বর্তমান যুগেও যেসব স্থান ও সমাজের মানুষের মধ্যে আল্লাহর জিকির-স্মরণ ও পরকালীন ভয়ভীতি বিদ্যমান, সেখানে অপরাধ সংঘটনের সংখ্যা নিতান্তই কম।
লেখক : নিবন্ধকার