১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
Breaking::

Daily Archives: October 1, 2016

বাংলাদেশ দলের বিজয়ে শিবিরের অভিনন্দন

14

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ষ্টেডিয়ামে আফগান ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে জয় এবং বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে শততম বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত এক যৌথ বিবৃতিতে এই অভিনন্দন জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজধানীর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ম্যাচে আফগানদের ১৪১ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ এ জিতেছে বাংলাদেশ। একই সাথে এটি বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে শততম জয়। এই ঐতিহাসিক বিজয়ে গোটা জাতি আজ আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। নি:সন্দেহে বাংলাদেশে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

এই অসাধারণ বিজয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড়, ম্যানেজার, কোচ এবং ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এ বিজয় জাতিকে আরো আশান্বিত করেছে। আমরা আশা করি এ বিজয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকবে, সেইসাথে জাতির জন্য আরোও বড় সাফল্য নিয়ে আসবে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম। বাংলার দামাল ছেলেরা আবারো দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের মুখ উজ্জল করবে ইনশাআল্লাহ।

নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সুস্থতা ও মানসিক দৃঢ়তা কামনা করে মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন।

-বিজ্ঞপ্তি

সিরিজ জয় ও শততম একদিনের ম্যাচ জয়

157775_354

সিরিজ জয় ও শততম একদিনের ম্যাচ জয়- এই দুটো লক্ষ্যকে সামনে রেখে মিরপুরে আজ আফগানিস্তানের মোকাবেলা করতে নেমেছিল টাইগাররা। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দুটো অর্জনই ধরা দিয়েছে হাতের মুঠোয়।

তবে তারচেয়েও বড় আরেকটি বিষয় প্রমাণ করার ছিল আজ টাইগারদের সামনে- গত দুটি ম্যাচের পর চারদিক থেকে ওঠা নানান প্রশ্নের জবাব দেয়া। যেটিও চমৎকারভাবে করেছে মাশরাফি বাহিনী।

সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে আফগান বাহিনীকে ১৪১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তার চেয়েও বড় কথা আজ একটি বারের জন্য মনে হয়নি আফগানিস্তান জিততে পারে এই ম্যাচ। পুরোটা সময় জুড়েই ছিল টাইগারদের আধিপত্য। ব্যাটে বলে টাইগারদের নৈপুণ্যে অসহায় আত্মসমার্পন করতে বাধ্য হয়েছে সফরকারীরা।

সিরিজ হয়তো জেতা যেত যেনতেন ভাবেও, শততম ম্যাচ জয়ের আনন্দও আসতো আজ না হোক দুদিন পর; কিন্তু শেষের কাজটি মনে হয় এর চেয়ে ভালোভাবে করার আর কিছু নেই। সব প্রশ্নের, সব শঙ্কার জবাব টাইগাররা দিয়েছে মাঠে।

গত দুই বছর দুর্দান্ত খেলতে থাকা একটি দল হঠাৎ করেই যেন অচেনা হয়ে ওঠে অপেক্ষাকৃত দুর্বল আফগানিস্তানকে সামনে পেয়ে। যারা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে, বিশ্বকাপের পর দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানকে সিরিজ হারিয়েছে- তারাই ভূগতে থাকে সিরিজ হারানোর শঙ্কায়। এতদিন জাতিকে স্বপ্নের জগতে বিচরণ করানো দলটিকে ঘিরেই ওঠে দর্শক-সমর্থকদের নানান প্রশ্ন।

অবশ্য প্রশ্ন তোলার সুযোগ তাদের দেয়া হয়েছে বললে ভুল হবে না। প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও কোন মতে জয়, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পরাজয়। দুটি ম্যাচে অপেক্ষাকৃত ভালো খেলা আফগানিস্তানকে তৃতীয় ম্যাচে কিভাবে মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ সেটিই ছিল আলোচনায়।

কিন্তু টাইগাররা প্রমাণ করেছে তারা ফিরতে জানে। দীর্ঘ দশ মাস একদিনের ক্রিকেটের বাইরে থাকা দলটি আগের ছন্দে ফিরতে হয়তো একটু সময় নিয়েছে। কিন্তু ফিরেছে ফেরার মতই। বাঘের ডেরায় এসে উল্টো হুঙ্কার দেয়া আফগানদের মাটিতে নামিয়েই তারা জানান দিয়েছে- এই টাইগার, সেই টাইগার।

সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল দেখাল পাক বাহিনী

pakistan-helicopter

পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় বাহিনীর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’র দাবি নিয়ে চলছে দুই বাহিনীর পাল্টাপাল্টি দাবি। নিজেদের দাবির সতত্য প্রমাণে এবার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের নিয়ে গেল পাক বাহিনী। শনিবার ভিমবার থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বাঘশিরের লাইন অব কন্ট্রোলের কাছে ঘটনাস্থলের আশপাশের পরিস্থিতি দেখাতে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাস্থল থেকে জিও নিউজকে তাদের সাংবাদিক জারঘুন শাহ জানান, ওই এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর অনুপ্রবেশ অসম্ভব। এলাকাটি এমনভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে, কোনো বন্যপ্রাণীরও তা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়।

ভারতীয় হেলিকপ্টারের ওই এলাকায় আসা এবং অভিযান পরিচালনা করে লুকিয়ে ফিরে যাওয়ার ভারতীয় ‘মিথ্যাচার’ নাকচ করে দেন পাক আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক (ডিজি) জেনারেল আসিম সালীম বাজওয়া। তিনি বলেন, এই এলাকায় হেলিকপ্টারের আসা এবং নজরদারি ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়া ভারতীয় ‘মিথ্যাচার’ ছাড়া আর বেশি কিছু নয় যা তাদের জনগণকে কেবল বিভ্রান্তই করছে।

আইএসপিআর ডিজির ব্যাখ্যায়- ওই এলাকায় কোনো হেলিকপ্টার আসলে তা ব্যাপক শব্দ করতো এবং উপত্যকায় নামার চেষ্টা করলে ওই শব্দ আরও বাড়তো।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখাতে নিয়ে এসেছে। কিন্তু ভারত তাদের জনগণকে এই সুযোগ দিচ্ছে না যেটা সন্দেহজনক। আইএসপিআর ডিজি জোর দিয়ে বলেন, ভারত যে পাঁচটি স্থানে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হেনেছে বলে দাবি করেছে, সাংবাদিকরা চাইলে সেগুলোর যে কোনোটিতে যেতে পারে। এজন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রয়েছে।

ভারতীয় বাহিনীর হতাহতের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত দাবি করে বলেন, ‘আমি আমাদের দুই সেনার শাহাদাতবরণের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছি। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ভারত কেন তাদের ক্ষয়ক্ষতি লুকাচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’ দুই পাকিস্তানি সেনাসহ বহু জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

অন্যদিকে এ ধরনের অভিযানের দাবি নাকচ করে দিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের পাল্টা হামলায় দুটি স্থানে ১৪ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। আর একজনকে আটক করা হয়েছে।

ভারত তাদের এক সেনা নিখোঁজের বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেছে, ওই সেনা ‘ভুল’ করে পাকিস্তানের সীমানায় ঢুকে পড়েছে এবং সে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’র সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।

চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পুরনো : সৈয়দ আশরাফ

%e0%a6%b8%e0%a7%88%e0%a7%9f%e0%a6%a6-%e0%a6%86%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ab

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, চীন ও ভারত বর্ষের সভ্যতার মতোই তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পুরনো। দুই দেশের উন্নয়নের কথা ভেবে সে সম্পর্ক আজও অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার বিএমএ মিলনায়তনে চীন গণতন্ত্র বিপ্লবের ৬৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আশরাফ এ কথা বলেন।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর ইয়াং জাও হুই, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, সাম্যবাদী দলের পলিটব্যুরোর সদস্য লুৎফর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, কৃষ্টি, কালচার, আধুনিকতা ও ধর্মীয় চেতনা নিয়ে এদেশের মানুষ যেভাবে ভাবেন, চর্চা করেন; চীনেও তাই। তাদের নৈতিক আদর্শের সঙ্গেও আমাদের মিল আছে। সুতরাং উভয় দেশের মেল বন্ধন যতটুকু না রাজনৈতিক, তারচেয়ে বেশি আত্মিক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলেন, চীনের রাষ্ট্রপতি আমাদের দেশের মাটিতে শীঘ্রই পা রাখবেন। এটা দুই দেশের জন্যই আলোচিত ঘটনা। ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই আত্মিক সম্পর্ক বুদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি বৃদ্ধি পাবে। হাজার বছর আগে জ্ঞানতাপস অতীশ দীপঙ্কর পায়ে হেঁটে চীন পৌঁছে ছিলেন এ অঞ্চলের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য বলেও জানান তিনি।
ইয়াং জাও হুই বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে আমরা নানাভাবে সম্পৃক্ত আছি এবং থাকবো। আমরা চাই দুই দেশের সু-সম্পর্কের মাধ্যমে উন্নত চিন্তার বিকাশ ঘটবে।

সূত্র : বাসস

জাতির কাঙ্খিত নেতৃত্বের দায়িত্ব ছাত্রশিবিরকেই নিতে হবে

untitled

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, বছরের পর বছর অসৎ নেতৃত্বের অপশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। তারা সৎ নেতৃত্বের প্রত্যাশায় প্রহর গুণছে। সুতরাং জাতিকে হতাশ হয়ে থাকতে দেয়া যায় না। জাতির কাঙ্খিত নেতৃত্ব দানে নিজেদের তৈরি করতে হবে।

তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত দিনব্যাপী ওয়ার্ড দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শাখা সভাপতি রিয়াজ উদ্দিনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা বিষয়ক সম্পাদক সাদেক বিল্লাহ।

শিবির সেক্রেটারি বলেন, একটি দেশ উন্নতির শিহরে আরোহন করার জন্য যা দরকার সবই আছে এদেশে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার বয়স প্রায় চার দশক হলেও শোষণহীন সমাজ বা সোনার বাংলা এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। আগামীর দিনগুলোও ছেয়ে আছে অনিশ্চয়তায়। এ অবস্থার মূল কারণ অসৎ নেতৃত্ব। এক অসৎ নেতৃত্ব জন্ম দিচ্ছে আরো অসৎ নেতৃত্বের। স্বাধীনতার পর থেকে এভাবেই চলছে দেশ। ফলে কাঙ্খিত সোনার বাংলা আজ বিভীষিকাময় প্রান্তরে পরিণত হয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, ন্যায়-বিচার, গণতন্ত্র আজও মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারেনি। মানুষের জীবনযাত্রা গুম, খুন, অরাজকতা ও অনিশ্চয়তায় ছেয়ে গেছে। দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ অসৎ নেতৃত্বের অপশাসনের শিকার। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও মৌলিক অধিকার জিম্মি হয়ে পড়েছে। এমনকি রক্ত-নদীর বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও আজ হুমকির মুখে। জাতির এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথ একটিই আর তা হলো সৎ ও যোগ্যতা সম্পন্ন নেতৃত্ব কায়েম।

তিনি বলেন, সৎ নেতৃত্ব কায়েমের জন্য ছাত্রসমাজের ভূমিকাই প্রধান। তারাই নতুন দিনের বার্তাবাহক। কিন্তু নানা কারণে ছাত্রসমাজের একটি অংশ জাতিকে হতাশ করছে। সুতরাং জাতির কাঙ্খিত নেতৃত্ব কায়েমের দায়িত্ব ছাত্রশিবিরকেই নিতে হবে। ইসলামী ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ অবধি শিবিরের লাখ লাখ নেতা-কর্মী দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নেতাকর্মীদেরকে নিজেদের চরিত্র ও আচরণে ইসলামের সুমহান আদর্শ ধারণ করে জনগনের সামনে তা ফুটিয়ে তুলতে হবে। পরকালের ভয় ও যোগ্যতার সমন্নয় করে নেতৃত্বের প্রত্যাশিত গুণাবলী অর্জন করতে হবে। যদিও হাজারো বিপথের হাতছানি আছে তবুও কুরআনকে বুকে ধারণ করে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিজেদের দূরে থাকতে হবে। ছাত্রসমাজকেও বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ভারতীয় ৮ সেনা নিহতের বিষয়টি সুনিশ্চিত: বাজওয়া

ভারতের আট সেনা সদস্যকে খতম করার বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিশ্চিত বলে দাবি করেছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর আন্ত-গণসংযোগ বিভাগ- আইএসপিআর এর মহা-পরিচালক লে. জেনারেল আসিম বাজওয়া।

আজ (শনিবার) পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মিরের বাঘসার এলাকায় সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে বাজওয়া আরো বলেন, সীমানা ক্রস করে পাকিস্তানী ভূখন্ডে ঢুকে দুই পাক সেনাকে হত্যার পাল্টা জবাব হিসেবে চালানো হামলায় ভারতীয় বাহিনীতে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে।

রেডিও পাকিস্তানের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দি “ডন” এই তথ্য দিয়েছে।

তবে ভারত কেন তার ক্ষয়ক্ষতি ও সেনা সদস্য খোয়ানোর বিষয়টি গোপণ করতে চাচ্ছে তা নিয়েও বিস্ময় করেন পাকিস্তানের এই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা।

পাকিস্তান আইএসপিআর-এর মহা-পরিচালক আরো বলেন, নিয়ন্ত্রন রেখা অতিক্রম করে ভারতীয় বাহিনীর গুলিবর্ষণের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে পাক সেনারা।

কারো স্বার্থেই এই যুদ্ধ নয় মন্তব্য করে বাজওয়া বলেন, আমরা শুধুমাত্র আমাদের মার্তৃভূমিকে রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও আমরা এই অবস্থানে অনড় থাকবো।

পাকিস্তান সীমান্তে এক ভারতীয় সেনা অসাবধানতাবসত ঢুকে পড়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাজওয়া বলেন, তার সেনাবাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত ড. মালিহা লোধি বলেন, পাকিস্তানি ভূখন্ডে ঢোকার চেষ্টাকালে এক ভারতীয় সেনাকে আটক করা হয়েছে।

তবে, ভারতীয়দের দাবি অসাবধানতাবশত যেই ভারতীয় সেনা পাকিস্তানে প্রবেশের সময় আটক হয়েছেন তাকে চলমান রীতি অনুযায়ী নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের নিয়ন্ত্রন রেখা বরাবর গোলাগুলির ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করছে।

ভারতের পক্ষ থেকে প্রথমে শুরু হওয়া গুলির ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত দুই পাকিস্তানী সেনা (ইমতিয়াজ ও জুমা খান) নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মির এলাকায় পাক-ভারত নিয়ন্ত্রন রেখাকে বিতর্কিত সীমানা হিসেবে আখ্যায়িত করে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা ওই সীমানা অতিক্রম করে একটি “সার্জিকাল হামলা চালিয়েছে।

অবশ্য পরবর্তীতে নিজেদের এক সেনা সদস্যকে পাকিস্তানী সেনাদের হাতে আটক হওয়ার কথা স্বীকার করেছে ভারতীয় বাহিনী।

এই ঘটনার পর পরই আবার বিভিন্ন সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, নিয়ন্ত্রন লাইনে দুই দেশের সেনাদের গুলি বিনিময়ের ঘটনায় আট ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন।

নিউ দিল্লীতে এক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা বলেন, ৩৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর এক সেনা সদস্য নিয়ন্ত্রন রেখা অতিক্রম করে পাকিস্তানী ভূখন্ডে অসাবধানতাবশত ঢুকে পড়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

(সূত্র: দি ডন, দি ডেইলি টাইমস)

অবসরের আগেই কঠিন প্রতিশোধ নিতে চান রাহিল শরিফ

gen_raheel_sharif

পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ নভেম্বরে অবসরে যাচ্ছেন। তবে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি ভারতবিরোধী কঠোর নীতির বাস্তবায়ন এবং কঠিন প্রতিশোধ নিতে চান বলেই ধারণা করছে ভারত। তার কার্যক্রমে প্রতিবেশী দেশের ভাবনার প্রতিফলনও দেখা গেছে। ভারতের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তানি সেনাদের কড়া নজরদারি নিয়ে শুক্রবার তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

জেনারেল শরিফ বলেন, ‘শত্রুপক্ষের সব রকম আঘাতের যথাযথ প্রত্যুত্তর দেবে পাকিস্তান। কোনও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালিয়ে পাকিস্তানকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’

ভারতের দাবি করা সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে সেই পরিস্থিতিতে জেনারেল শরিফের এই মন্তব্যকে রক্তাক্ত প্রতিশোধের সম্ভাবনা বলেই বিবেচনা করছে ভারত।

সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত গোপালাস্বামী পার্থসারথি বলেন, ‘জেনারেল রাহিল শরিফ ও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মধ্যে সুসম্পর্ক নেই। ফলে জেনারেল শরিফ নিজেই ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বিপরীতে কোনও অবস্থান নির্ধারণ করে ফেলতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৬৫ সালের যুদ্ধে জেনারেল শরিফের চাচার মৃত্যু হয়। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে নিহত হন তার ভাই। জেনারেল শরিফের মধ্যে তীব্র ভারতবিরোধী অনুভূতি বিদ্যমান। ফলে তিনি অনেক কিছুই করে বসতে পারেন। ভারতের উচিত হবে সে সম্পর্কে প্রস্তুত থাকা।’

এদিকে, জেনারেল শরিফ অবসর গ্রহণের পর তার পদে কাকে তার দায়িত্ব দেওয়া হবে সে সম্পর্কেও ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। এই পদের জন্য চারজন লেফটেন্যান্ট জেনারেলের নামও সুপারিশ করেছেন তিনি। এদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাভেদ ইকবাল রামদির নাম।

তবে জেনারেল শরিফের পদে যে-ই বসেন না কেন, তাতে ভারতের আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই বলেই মনে করেন পার্থসারথি। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের ভারতবিরোধী এজেন্ডা অপরিবর্তিত থাকবে।’ সূত্র: ডন, টাইমস অব ইন্ডিয়া

সাভারে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবদল নেতা নিহত

সাভারে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার ভোররাতে বিরুলিয়ার কৃষিবিদ নার্সারির পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম শাহ আলম নয়ন (৪২)। তাঁর বাড়ি সাভার পৌরসভার মালঞ্চ এলাকায়। তিনি সাভার পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে স্থানীয় যুবদল দাবী করেছে।

তবে সাভার মডেল থানা পুলিশ জানায়, শাহ আলম নয়ন সাভারের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে সাভার থানায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এবং পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত রাতে শাহ আলম নয়নকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নিজ বাসা থেকে আটক করেন সাভার মডেল থানার উপরিদর্শক (এসআই) তন্ময় ও আহসান। পরে আজ ভোর রাতে সাভারের বিরুলিয়ার কৃষিবিদ নার্সারির পাশে তাঁকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ। এ সময় ওত পেতে থাকা শাহ আলমের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। সেই গুলিতে আহত হন নয়ন। পরে পুলিশ তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীতে যুব ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ : আটক ১২

chatrodol

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে রাজধানীর নয়া পল্টন ও বিজয় নগর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা শনিবার সকাল দশটায় মিছিল বের হলে সেখান থেকে ১২ জনকে আটক করেছে পল্টন থানা পুলিশ।

ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি জানান, শান্তিনগর পীরসাহেব গলির মাথা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- কাজী মহিউদ্দিন মহি, আরিফুল ইসলাম আরিফ, মাসুম বিল্লাহ’র নাম জানা গেছে। এঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

অন্যদিকে সকালে জাতীয়তাবাদী যুবদল কাকরাইল মোড় এলাকা থেকে সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরবের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে সংগঠনের মহানগর শাখার বহু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুপর একটার দিকে রাজধানীর বিজয় নগর পানির ট্যাংকি এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে কেন্দ্রী ছাত্রদল। সংগঠনের সভাপতি রাজীব আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, কাজী মোক্তার, মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, বিএম নাজিম মাহমুদ, শাহীন আলম প্রমুখ। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড়ের দিকে এগিয়ে আল রাজী কম্পেলেক্স’র সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়

পাকিস্তানে ভারতীয় সিনেমা বন্ধ

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে দুই দেশের বিনোদন জগতেও। কিছুদিন আগে ভারত থেকে পাকিস্তানি তারকাদের ফেরত পাঠানোর কথা বলেছিল ভারত। এবার পাকিস্তানে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির হল মালিকরা।

এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ৩ অক্টোবর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যে আহ্বান করেছেন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে কোনো ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শন করা হবে না, এমন ঘোষণা দিয়েছে সেদেশের সিনেমার পরিবেশকরা ।

এমন সিদ্ধান্তে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ হয়েছে দেশটির লাহোর করাচি ও ইসলামাবাদের সিনেমা হলগুলোতে।

দুই দেশের সীমান্তের উত্তেজনা এভাবেই পৌঁছে গেছে বিনোদন ও সংস্কৃতি জগতে।

তবে বিবিসির সংবাদদাতারা বলছেন, এবারই প্রথম নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ওঠানামার প্রভাব এর আগেও শিল্প-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে পড়েছে।

চির বৈরিতা থাকলেও পাকিস্তানে ভারতীয় সিনেমা খুবই জনপ্রিয়। তারপরেও সাম্প্রতিক সামরিক টানাপড়েনে পাকিস্তানের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এবং পরিবেশকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তত দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখা হবে বলিউডের সিনেমা প্রদর্শন। যতদিন দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক না হচ্ছে সময়সীমা ততদিন পর্যন্তও দীর্ঘ হতে পারে।

এতে ব্যবসায়িক ক্ষতিও মেনে নিতে রাজি দেশটির চলচ্চিত্র বিষয়ক সংস্থাগুলি।

এর একদিন আগে ভারতীয় নির্মাতাদের একটি সংগঠন জানিয়েছিল, তারা পাকিস্তানী কোনো অভিনেতাকে বলিউডের সিনেমাতে সুযোগ দেবে না। তারও আগে একজন চরমপন্থি রাজনীতিবিদ পাকিস্তানী অভিনেতাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল।

এদিকে, নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানের পর দুই দেশেরই সীমান্তের অনেক জায়গায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রামবাসীদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি